আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ইতালিতে পৌঁছানোর উদ্দেশ্যে তিউনিসিয়া থেকে যাত্রা করা অভিবাসীবাহী একটি নৌকা ভূমধ্যসাগরে ডুবে অন্তত ১১ জনের মৃত্যু হয়েছে। দুর্ঘটনার পর আরও ছয়জন নিখোঁজ রয়েছেন। তাঁদের সন্ধানে তিউনিসিয়ার নিরাপত্তা ও উদ্ধারকারী সংস্থাগুলো অভিযান অব্যাহত রেখেছে।
তিউনিসিয়ার ন্যাশনাল গার্ডের পক্ষ থেকে রোববার দুর্ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। কর্তৃপক্ষ জানায়, নিখোঁজদের উদ্ধারে কোস্টগার্ড, সেনাবাহিনী ও সিভিল প্রটেকশন বিভাগের সদস্যরা সাগর ও উপকূলীয় এলাকায় তল্লাশি চালাচ্ছেন। অভিযানে দুটি সামরিক হেলিকপ্টারও ব্যবহার করা হচ্ছে।
স্থানীয় সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, গত বৃহস্পতিবার ভোরে নৌকাটি তিউনিসিয়া থেকে ইতালির উদ্দেশ্যে রওনা হয়। নৌকার যাত্রীদের অধিকাংশই ছিলেন তরুণ। তাঁদের মধ্যে একটি পরিবারের সাত সদস্য ছিলেন। এছাড়া এক অন্তঃসত্ত্বা নারী তাঁর স্বামীর সঙ্গে ওই নৌকায় ছিলেন বলে জানা গেছে।
দুর্ঘটনার পর দীর্ঘ সময় সাগরে ভেসে থাকা অবস্থায় মাত্র একজনকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়। পরে একটি বাণিজ্যিক জাহাজ তাঁকে উদ্ধার করে। ওই ব্যক্তি জানান, উদ্ধারের আগে তিনি প্রায় ৪৮ ঘণ্টা সাগরে ভেসে ছিলেন।
নৌকায় থাকা সবাই তিউনিসিয়ার দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের বেন গেরদানে শহরের বাসিন্দা বলে জানিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন। নিখোঁজদের দ্রুত খুঁজে বের করার দাবিতে শনিবার রাতে শহরটিতে বিক্ষোভ করেন স্থানীয় তরুণরা। একপর্যায়ে পুলিশ টিয়ার শেল ব্যবহার করে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করে।
নিখোঁজ ব্যক্তিদের ভাগ্যে কী ঘটেছে, তা জানতে উদ্ধার অভিযান শেষ না হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হচ্ছে। দুর্ঘটনাটি ভূমধ্যসাগর পেরিয়ে ইউরোপে যাওয়ার ঝুঁকিপূর্ণ অভিবাসনযাত্রার ভয়াবহতার বিষয়টিও আবার সামনে নিয়ে এসেছে।


