আন্তর্জাতিক ডেস্ক
মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত, জলবায়ু পরিবর্তন ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সম্ভাব্য ঝুঁকিসহ নানা বৈশ্বিক ইস্যু নিয়ে আলোচনার মধ্য দিয়ে আজ মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) শুরু হচ্ছে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের মূল বিতর্ক পর্ব। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানরা এরই মধ্যে অধিবেশনে অংশ নিতে নিউইয়র্কে পৌঁছেছেন।
এবারের সাধারণ পরিষদের প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে—‘বিশ্বাস পুনরুদ্ধার ও রূপান্তর ব্যবস্থাপনা’। এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে বিশ্বনেতারা তাঁদের বক্তব্যে বৈশ্বিক সংকট মোকাবিলা, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদার এবং ভবিষ্যৎ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় করণীয় তুলে ধরবেন।
সাধারণ বিতর্কে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ ও সংঘাত বিশেষ গুরুত্ব পাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। পাশাপাশি ফিলিস্তিন ইস্যু, জলবায়ু পরিবর্তন এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দ্রুত বিকাশের ফলে সৃষ্ট সম্ভাব্য ঝুঁকি নিয়েও আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।
এবারও সাধারণ পরিষদের অন্যতম আলোচিত বিষয় ফিলিস্তিন। ভিসা জটিলতার কারণে ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস নিউইয়র্কে সশরীরে উপস্থিত থাকতে পারছেন না। তিনি ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ভাষণ দেবেন। অন্যদিকে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান নিউইয়র্কে উপস্থিত হয়ে সাধারণ পরিষদে বক্তব্য দেবেন।
নতুন মহাসচিব নিয়ে আলোচনা
জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের দ্বিতীয় মেয়াদের দায়িত্ব শেষ হবে ২০২৬ সালের ৩১ ডিসেম্বর। ফলে তাঁর উত্তরসূরি কে হবেন, তা নিয়েও এবারের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে বিভিন্ন পর্যায়ে আলোচনা হতে পারে।
এ বিষয়ে সাধারণ পরিষদের অধিবেশন চলাকালে একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।
প্রথমবার জাতিসংঘে তারেক রহমান
এবারের অধিবেশন বাংলাদেশের জন্যও বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রথমবারের মতো জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে অংশ নিচ্ছেন। আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর সাধারণ পরিষদের মূল বিতর্কে বাংলাদেশের পক্ষে ভাষণ দেওয়ার কথা রয়েছে তাঁর।
নিউইয়র্ক সফরকালে প্রধানমন্ত্রী বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান এবং আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করবেন। এসব বৈঠকে বাংলাদেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় আলোচনায় আসতে পারে।
সভাপতির দায়িত্বে বাংলাদেশ
৮১তম সাধারণ পরিষদের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো এর সভাপতির দায়িত্বে রয়েছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। প্রায় চার দশক পর বাংলাদেশ থেকে আবারও কেউ জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন।
ফলে বিশ্বনেতাদের অংশগ্রহণে শুরু হওয়া এবারের অধিবেশনে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ও সাধারণ পরিষদের সভাপতির দায়িত্বে থাকা বাংলাদেশের প্রতিনিধির উপস্থিতি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি দিক হয়ে উঠেছে।


