বরেন্দ্রকণ্ঠ নিউজ
ভূমি সেবায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে দেশের সব উপজেলা ভূমি অফিস ও ইউনিয়ন ভূমি অফিসে বায়োমেট্রিক ডিজিটাল হাজিরা ব্যবস্থা চালুর নির্দেশ দিয়েছে ভূমি মন্ত্রণালয়। একই সঙ্গে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা নিয়মিত এই প্রযুক্তিনির্ভর হাজিরা ব্যবস্থা ব্যবহার করছেন কি না, তা নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসকদের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে বলা হয়েছে।
এ বিষয়ে দেশের সব জেলা প্রশাসকের কাছে চিঠি পাঠিয়েছে ভূমি মন্ত্রণালয়। গত ১৪ সেপ্টেম্বর মন্ত্রণালয়ের মাঠ প্রশাসন-২ শাখা থেকে জারি করা চিঠিতে সংশ্লিষ্ট সব দপ্তরে দ্রুত বায়োমেট্রিক ডিজিটাল হাজিরা ডিভাইস স্থাপনের নির্দেশ দেওয়া হয়।
মন্ত্রণালয়ের চিঠিতে বলা হয়েছে, সরকারি দপ্তরে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও সুষ্ঠু কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করতে সরকার ই-গভর্ন্যান্সভিত্তিক বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে। এর অংশ হিসেবে মাঠপর্যায়ের ভূমি ব্যবস্থাপনাকে আরও গতিশীল ও কার্যকর করার পাশাপাশি সাধারণ মানুষকে নির্ধারিত সময়ে নির্বিঘ্নে ভূমি সেবা দিতে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিয়মিত কর্মস্থলে উপস্থিত থাকা জরুরি।
এ কারণে দেশের সব উপজেলা ও ইউনিয়ন ভূমি অফিসে অবিলম্বে বায়োমেট্রিক হাজিরা ডিভাইস স্থাপনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি স্থাপিত ডিভাইসগুলো কর্মকর্তা-কর্মচারীরা নিয়মিত ব্যবহার করছেন কি না, সেটিও তদারকির আওতায় আনতে বলা হয়েছে।
ভূমি মন্ত্রণালয়ের এ নির্দেশনার পেছনে মাঠপর্যায়ের অফিসগুলোতে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উপস্থিতি নিশ্চিত করার বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে। সম্প্রতি নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলা ভূমি অফিসে আকস্মিক পরিদর্শনে গিয়ে কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারীকে কর্মস্থলে অনুপস্থিত পাওয়ার পাশাপাশি হাজিরা খাতায় আগাম স্বাক্ষরের ঘটনা সামনে আসে।
ওই ঘটনায় দুই সহকারী কমিশনার (ভূমি)সহ মোট ২০ কর্মকর্তা-কর্মচারীকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয় নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসন। গত ৩১ আগস্ট জেলা প্রশাসনের রেভিনিউ ডেপুটি কালেক্টর (অতিরিক্ত দায়িত্ব) জাকিয়া সরওয়ার লিমা বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, সদর উপজেলা ভূমি অফিসের ১০ জন, সিদ্ধিরগঞ্জ রাজস্ব সার্কেলের ছয়জন এবং ফতুল্লা রাজস্ব সার্কেলের দুজনকে শোকজ করা হয়।
নোটিশে বলা হয়, ৩১ আগস্ট সকালে ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন সদর উপজেলা ভূমি অফিস পরিদর্শনে গিয়ে বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারীকে কর্মস্থলে পাননি। তাদের মধ্যে কয়েকজন আবার ওই দিনের হাজিরা খাতায় আগেই স্বাক্ষর করে রেখেছিলেন।
এ ধরনের কর্মকাণ্ডকে সরকারি কর্মচারীর জন্য গর্হিত অপরাধ হিসেবে উল্লেখ করে নোটিশে সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮-এর আওতায় ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়। পাশাপাশি যথাযথ কারণ ছাড়া কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকা কিংবা নির্ধারিত সময়ের পরে অফিসে উপস্থিত হওয়াকে সরকারি কর্মচারী (নিয়মিত উপস্থিতি) বিধিমালা, ২০১৯-এর লঙ্ঘন হিসেবেও উল্লেখ করা হয়েছে।
নতুন নির্দেশনার ফলে উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের ভূমি অফিসে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উপস্থিতি ডিজিটাল পদ্ধতিতে নথিভুক্ত ও তদারকির সুযোগ তৈরি হবে। এর মাধ্যমে মাঠপর্যায়ে ভূমি সেবা প্রদানের ক্ষেত্রে নিয়মিত উপস্থিতি ও জবাবদিহিতা আরও জোরদার করার লক্ষ্য রয়েছে।


