বরেন্দ্রকণ্ঠ নিউজ
নবম জাতীয় পে-স্কেলে সরকারি চাকরিজীবীদের মূল বেতনের পাশাপাশি বেশ কিছু ভাতা বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। গ্রেড ও বয়সভেদে চিকিৎসা ভাতা, মোবাইল বিল, যাতায়াত, টিফিন ও ধোলাই ভাতায় পরিবর্তন আনার উদ্যোগ রয়েছে। তবে একই সঙ্গে কমতে পারে বাড়ি ভাতার শতাংশ।
অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, নতুন বেতন কাঠামোর সারাংশ আইন মন্ত্রণালয়ে ভেটিংয়ের জন্য পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে। ভেটিং প্রক্রিয়া নির্ধারিত সময়ে শেষ হলে চলতি মাসেই পে-স্কেলের গেজেট প্রকাশের সম্ভাবনা রয়েছে। সম্ভাব্য তারিখ হিসেবে ১৭, ২১ ও ২২ সেপ্টেম্বরের কথা আলোচনায় রয়েছে। তবে চূড়ান্ত সময় নির্ভর করবে ভেটিং শেষ হওয়ার ওপর।
প্রস্তাবিত কাঠামোয় চিকিৎসা ভাতায় বয়সভিত্তিক পরিবর্তন আনা হচ্ছে। ৫০ বছর পর্যন্ত বয়সি চাকরিজীবীদের মাসে ৩ হাজার টাকা এবং ৫০ বছরের বেশি থেকে ৬০ বছর বয়সিদের ৪ হাজার টাকা চিকিৎসা ভাতা দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। পেনশনভোগীদের মধ্যে ৬০ থেকে ৭০ বছর বয়সিরা ৫ হাজার এবং ৭০ বছরের বেশি বয়সিরা ৬ হাজার টাকা পাবেন।
মোবাইল ভাতার ক্ষেত্রেও বাড়ছে সুবিধার আওতা। নতুন কাঠামোয় প্রথম থেকে পঞ্চম গ্রেডের কর্মকর্তাদের মাসে ৫০০ টাকা এবং ষষ্ঠ থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ১৫০ টাকা মোবাইল ভাতা দেওয়ার প্রস্তাব রয়েছে। বর্তমানে মোবাইল বিলের সুবিধা মূলত প্রথম থেকে পঞ্চম গ্রেডের কর্মকর্তাদের মধ্যে সীমিত।
জীবনযাত্রা ও পরিবহণ ব্যয় বিবেচনায় কয়েকটি ছোট ভাতাও বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। এর মধ্যে যাতায়াত ভাতা ৩০০ টাকা থেকে ৬০০ টাকা, টিফিন ভাতা ২০০ থেকে ৫০০ টাকা এবং ধোলাই ভাতা ১০০ থেকে ৩০০ টাকা করার উদ্যোগ রয়েছে। ঝুঁকি ভাতাসহ কয়েকটি বিশেষ ভাতাও বিদ্যমান হারের তুলনায় ২০ শতাংশ বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে।
অন্যদিকে বাড়ি ভাতার শতাংশ কমানোর প্রস্তাব রয়েছে। ঢাকা সিটি করপোরেশন এলাকায় বর্তমান ৫০ থেকে ৬৫ শতাংশের পরিবর্তে ৪০ থেকে ৬০ শতাংশ, ঢাকার বাইরে অন্যান্য সিটি করপোরেশন ও সাভারে ৪০ থেকে ৫৫ শতাংশের পরিবর্তে ৩০ থেকে ৫০ শতাংশ এবং অন্যান্য এলাকায় ৩৫ থেকে ৫০ শতাংশের পরিবর্তে ২৫ থেকে ৪৫ শতাংশ করার প্রস্তাব করা হয়েছে।
তবে মূল বেতন উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ায় বাড়ি ভাতার শতাংশ কমলেও টাকার অঙ্কে ভাতার পরিমাণ বাড়তে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। অর্থাৎ মূল বেতন বৃদ্ধি ও ভাতার হারের মধ্যে সমন্বয়ের মাধ্যমে মোট আর্থিক সুবিধা নির্ধারণের চেষ্টা করা হয়েছে।
উচ্চতর গ্রেড পাওয়ার ক্ষেত্রেও পরিবর্তনের প্রস্তাব রয়েছে। বর্তমানে একই গ্রেডে ১০ বছর চাকরির পর উচ্চতর গ্রেড পাওয়ার সুযোগ থাকলেও নতুন কাঠামোয় তা কমিয়ে আট বছর করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দ্বিতীয়বার উচ্চতর গ্রেডের ক্ষেত্রে একই গ্রেডে আরও ছয় বছর চাকরির শর্ত রাখা হচ্ছে।
সরকারি হিসাবে, নতুন পে-স্কেলের আওতায় প্রায় ২৪ লাখ সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং প্রায় সোয়া ৯ লাখ অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী ও অন্যান্য যোগ্য সুবিধাভোগী উপকৃত হতে পারেন। প্রস্তাবিত কাঠামো ১ জুলাই ২০২৬ থেকে কার্যকর ধরা হলেও মূল বেতন ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে।
তবে এখনো নবম জাতীয় পে-স্কেলের চূড়ান্ত গেজেট প্রকাশ হয়নি। আইন মন্ত্রণালয়ের ভেটিং ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পরই এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানা যাবে।


