বরেন্দ্রকণ্ঠ নিউজঃ
সততা, নিষ্ঠা, দক্ষতা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে জনগণের আস্থা অর্জন করতে নবীন পুলিশ কর্মকর্তাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেছেন, ভয়ভীতি ও পক্ষপাতিত্বের ঊর্ধ্বে থেকে অসহায় ও বিপদগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়াতে হবে। জনগণের প্রত্যাশা পূরণের মধ্য দিয়েই পুলিশকে প্রকৃত অর্থে জনবান্ধব বাহিনী হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সকালে রাজশাহীর সারদায় বাংলাদেশ পুলিশ অ্যাকাডেমিতে ২৭তম শিক্ষানবিশ সার্জেন্ট এবং ৪৩তম ক্যাডেট এসআই-২০০৬ ব্যাচের মৌলিক প্রশিক্ষণ সমাপনী কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে প্রশিক্ষণ সমাপ্তকারী নবীন পুলিশ সদস্যদের উদ্দেশে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দায়িত্ব পালনের প্রতিটি ক্ষেত্রে পেশাগত সততা ও মানবিক মূল্যবোধ বজায় রাখতে হবে। সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং বিপদে তাদের পাশে দাঁড়ানো পুলিশের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব। এ দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে জনগণের বিশ্বাস ও আস্থা অর্জন করতে হবে।
সমাপনী কুচকাওয়াজে ২৭তম শিক্ষানবিশ সার্জেন্ট ব্যাচের ৮৪ জন এবং ৪৩তম ক্যাডেট এসআই ব্যাচের ১৬২ জন প্রশিক্ষণার্থী অংশ নেন। এ সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী প্যারেড পরিদর্শন ও অভিবাদন গ্রহণ করেন। পরে প্রশিক্ষণের বিভিন্ন ক্ষেত্রে কৃতিত্বপূর্ণ ফল অর্জনকারী ক্যাডেটদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন তিনি।
২৭তম শিক্ষানবিশ সার্জেন্ট ব্যাচে শ্রেষ্ঠ সার্জেন্ট নির্বাচিত হন ওমর ফারুক। বেস্ট অ্যাকাডেমিক বিভাগে মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসাইন, বেস্ট ইন ফিল্ড অ্যাক্টিভিটিস বিভাগে সাইফুল ইসলাম এবং বেস্ট শুটার বিভাগে মো. আসাদুজ্জামান পুরস্কার অর্জন করেন।
অন্যদিকে, ৪৩তম ক্যাডেট এসআই ব্যাচে শ্রেষ্ঠ ক্যাডেট হন মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম। বেস্ট অ্যাকাডেমিক বিভাগে মো. বোরহানুল ইসলাম, বেস্ট ইন ফিল্ড অ্যাক্টিভিটিস বিভাগে দেওয়ান গোলাম রসুল এবং বেস্ট শুটার বিভাগে মো. কামাল গনি কৃতিত্বের স্বীকৃতি পান।
ছয় মাসের মৌলিক প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করার পর ২৭তম শিক্ষানবিশ সার্জেন্টরা নিজ নিজ ইউনিটে যোগ দেবেন। একই মেয়াদে প্রশিক্ষণ শেষ করা ৪৩তম ক্যাডেট এসআই ব্যাচের সদস্যদের শিক্ষানবিশ এসআই (নিরস্ত্র) হিসেবে দেশের বিভিন্ন পুলিশ ইউনিটে পদায়ন করা হবে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ পুলিশের ইন্সপেক্টর জেনারেল (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির, বিপিএম এবং বাংলাদেশ পুলিশ অ্যাকাডেমির প্রিন্সিপাল ও অতিরিক্ত আইজিপি মো. মাইনুল হাসান, বিপিএম, পিপিএম, এনডিসি।
এ সময় রাজনৈতিক, সামরিক ও বেসামরিক প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ এবং প্রশিক্ষণ সম্পন্নকারী নবীন পুলিশ কর্মকর্তাদের অভিভাবকেরা উপস্থিত ছিলেন।


