রম্য লেখক, আমিনুল হকঃ
সিরাজগঞ্জ জেলার শাহজাদপুর উপজেলার জগতলা গ্রামে আজও ঠিকে আছে এক বিরল পারিবারিক ঐতিহ্য। ১৯৮৬ সালে প্রয়াত হন কোবাদ আলী শেখ। তিনি একজন সহজ সরল কৃষক ছিলেন। কিন্তু তাঁর রেখে যাওয়া উত্তরাধিকার শুধু জমি, ঘর নয়, বরং এক অবিশ্বাস্য পারিবারিক বন্ধন। প্রায় চার দশক কেটে গেলেও তাঁর ছেলেরা আজও একই আঙ্গিনায়, একই চুলায় রান্না করা ভাত ভাগ করে খান–একান্নভুক্ত এই পরিবার।
কোবাদ আলী শেখ রেখে যান তিন ছেলে। তাঁরা হলেন- মো: শাহাদত শেখ, আবু জাহিদ শেখ ও সাইদুর রহমান শেখ। আবার আবু জাহিদ শেখ তিন ছেলে রেখে ২০০৬ সালে প্রয়াত হন।
বর্তমান সময়ে একান্নভুক্ত পরিবার যেন বিলুপ্ত প্রায়। আধুনিকতা, চাকুরি ও ব্যক্তিগত জীবনযাত্রার কারনে বড় পরিবারগুলো ভেঙ্গে যাচ্ছে একক পরমাণুর মতো। কিন্তু জগতলার কোবাদ আলী শেখের বংশে তার উল্টো চিত্রই দেখা মিলে। তাঁর ছেলেরা দাদু, পিতামহ পর্যায়ে পৌছে গেছেন– তবুও একসঙ্গে আছেন, একসঙ্গে কাজ করেন, একসঙ্গে খান, একে অপরের সন্তানদের নিজের সন্তান বলে মানেন।
এই পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে বোঝা যায়, তাঁদের ঐক্যের মূলে আছে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও দায়িত্ববোধ ।
প্রয়াত কোবাদ আলী শেখের ছোট ছেলে সাইদুর রহমান শেখ। তিনি পল্লী বিদ্যুত বিভাগে চাকুরি করেন। তিনি বলেন, “বাবা বলে গেছেন- মাটি ভাগ করো, মন করো না। সেই কথা এখনো ধরে আছি আমরা।” পরিবারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় একত্রে বসে। ছোট বড় নির্বিশেষে সবাই মতামত দেয়। সংসারের খরচ, সন্তানদের পড়াশোনা-সব কিছুতেই স্বচ্ছতা ও সমন্বয় তাঁদের শক্তি ।
এমন পরিবারের সঙখা হাতে গোনা। যেখানে আত্মকেন্দ্রিকতা, ব্যস্ততা ও অর্থকেনদিরিক জীবনে মানুষ দূরে সরে যাচ্ছে, সেখানে এই পরিবারটি দাঁড়িয়ে আছে এক জীবন্ত প্রতীক হিসেবে- ঐক্যের, ভালোবাসা ও পারিবারিক শিকড়ের টানে।
জগতলার কোবাদ আলী শেখ আজ নেই, কিন্তু তাঁর রেখে যাওয়া পারিবারিক শিক্ষা আজও জীবন্ত। তাঁর সন্তানেরা প্রমান করে দিয়েছেন- আধুনিকতার ঝড়েও ঐক্য টিকে থাকতে পারে, যদি ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা অবিচল থাকে।


