রম্য লেখক, আমিনুল হকঃ
বাঙলার আকাশ–বাতাসে প্রতিদিনই যে পাখির সঙ্গে আমাদের দেখা হয়, তার নাম শালিক। গা-ভরা চকচকে কালো ও বাদামি রঙ, তীক্ষ্ম চোখ আর মাথা নেড়ে নেড়ে হাঁটার অভ্যাস– সব মিলিয়ে শালিক যেন প্রতিকৃতির এক প্রাণবন্ত চরিত্র।
গ্রামবাংলার উঠোন, শহর বন্দর গঞ্জের রাস্তা কিংবা মাঠের ধারের গাছ– সবখানেই শালিকের নির্ভার বিচরণ আমাদের দৃষ্টি কাড়ে।
শালিক শুধু সৌন্দর্যের প্রতীক নয়, পরিবেশের এক কার্যকর পরিচর্যাকারীও বটে। কৃষিজমিতে ফসলনাশক পোকা দমনে শালিক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বিভিন্ন ক্ষতিকর কীটপতঙ্গ খেয়ে তারা কৃষকের অজান্তেই ফসল রক্ষা করে। আবার খাদ্যচক্রের অংশ হিসেবে শালিক পরিবেশ ও প্রানীর ভারসাম্য বজায় রাখে।
আমাদের দেশে শালিক মানুষের খুব কাছাকাছি থেকে বেঁচে থাকা অল্প কয়েকটি পাখির একটি। ঘরবাড়ির কার্নিশ, গাছের ফোকর কিংবা বৈদ্যুতিক খুঁটির মাথায় তারা বাসা বাঁধে।
শালিকের হাঁটার ভঙ্গি, ডাকে রয়েছে সহজ স্বরলিপি। যা গ্রামীন সকালকে আরও জীবন্ত করে তোলে।
শালিক দলবেঁধে উড়তে এবং সন্ধ্যায় নির্দিষ্ট গাছে একত্রে বসার অভ্যাস তাদের জীবনের শৃঙ্খলা তুলে ধরে।
কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য যে, নগরায়ন, গাছপালা নিধন আর দূষনের কারনে শালিকের স্বাভাবিক আবাসস্থল ধীরে ধীরে কমছে। ফলে তাদের কমে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
শালিক শুধু প্রকৃতির অলঙ্কার নয়, পরিবেশ রক্ষায় তারা নীরব কিন্তু অপরিহার্য ভূমিকা পালন করে। শহর বন্দর গঞ্জ সবখানেই এই পাখির উপস্থিতি আমাদের মনে করিয়ে দেয়–মানুষ ও প্রকৃতি পরস্পর নির্ভরশীল। শালিককে রক্ষা করা মানে প্রকৃতির সঙ্গে আমাদের ভবিষ্যত সম্পর্ককে আরও নিরাপদ করা।


