হক আমীন
একসময় গ্রামবাংলার মানুষের বিনোদনের অন্যতম প্রধান মাধ্যম ছিল সার্কাস। মেলা-পার্বন কিংবা শীতের সন্ধ্যা-বিকেলে গ্রামের খোলা মাঠে বিশাল তাঁবু টাঙ্গিয়ে বসত সার্কাসের আসর। ঢাক- ঢোলের শব্দ, মাইকিং, আর পোস্টারে ছেয়ে যেত চারপাশ। শিশু থেকে বৃদ্ধ সবাই অপেক্ষা করত সেই রোমাঞ্চকর প্রদর্শনীর জন্য।
সার্কাস মানেই ছিল বিস্ময়ের এক জগত। দড়ির ওপর হেঁটে যাওয়া সাহসী নারী, আগুন নিয়ে খেলা করা শিল্পী, সাইকেলের ওপর ভারসাম্য রক্ষা করে নানা কসরত কিংবা বাঘ, ভল্লুক, হাতির দু:সাহসিক প্রদর্শনী-সবমিলিয়ে এক অনন্য অভিজ্ঞতা। সুখ- আনন্দ, গ্রামীন জীবনের একঘেয়েমি ভেঙ্গে মানুষকে বিনোদন দিত এই সার্কাস। সেই সময় টেলিভিশন বা ইনটারনেটের প্রসার ছিল না। তখন সার্কাস ছিল বিনোদনের বড় আকর্ষণ। দূর- দূরান্ত থেকে মানুষ পায়ে হেঁটে কিংবা নৌকায় চড়ে ছুটে আসত সার্কাস মাঠে। পরিবার-পরিজন নিয়ে সার্কাস দেখা ছিল এক ধরনের উত্সবের মতো।
কিন্তু সময়ের পরিবর্তনে আজ সেই সার্কাস প্রায় হারিয়ে গেছে। তবুও পুরোপুরি হারিয়ে যায়নি সার্কাস। এখনো কোথাও কোথাও ছোট আকারে সার্কাসের দেখা মেলে। সেখানে হয়তো আগের মতো জৌলুস নেই, নেই বাঘ, ভল্লুক, হাতির খেলা। কিন্তু আছে কিছু কসরত আর স্মৃতির টান। সেই সার্কাস দেখতে গিয়ে অনেকেই ফিরে যান শৈশবের দিনে। গ্রামবাংলার সার্কাস শুধু একটি বিনোদের মাধ্যম ছিল না, এটি ছিল সংস্কৃতির অংশ। এটি মানুষের মিলনমেলা তৈরি করত, আনন্দ ভাগাভাগির সুযোগ করে দিত। আজকের প্রজন্ম হয়তো সেই আনন্দের স্বাদ পুরোপুরি পায় না, কিন্তু স্মৃতিতে রয়ে গেছে সেই রঙিন দিনগুলো।
সার্কাসকে ঘিরে থাকা এই ঐতিহ্য সঙরক্ষন করা জরুরি। হয়তো নতুনরূপে, আধুনিক উপস্থাপনায়। কারন বিনোদনের মাধ্যম বদলালেও মানুষের সেই আনন্দের চাহিদা কখনোই কমে না। শুধু রূপ বদলায়,
সার্কাস শুধু অতীতের গল্প নয়, এটি আমাদের সংস্কৃতি, ঐতিহ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়-যা আমাদের মনে করিয়ে দেয়, আনন্দের সহজরূপ কতটা সুন্দর ছিল একসময়।


