রম্য লেখক, আমিনুল হকঃ
দেশের উত্তরের জেলা কুড়িগ্রাম। এই জেলার একেবারে শেষ সীমানায় অবস্থিত ভৃরুঙগামারী উপজেলা—আবহমান বাংলার ঐতিহ্য ও প্রাকৃতিক প্রাচুর্যে ভরা এক মনোরম জনপদ।
উপজেলাজুড়ে বিস্তৃত অসংখ্য বিল, ঝিল ও ছড়া, যা একসময় জীববৈচিত্র্যে ভরপুর ছিল। স্থানীয় জনশ্রুতি মতে, এই এলাকার নামকরণও সেই প্রকৃতিরই অনুপ্রেরণায়—‘ভূরুঙগা’ নামে এক প্রজাতির মাছের প্রাচুর্য থেকেই ‘ভৃরুঙগামারী’ নামের উৎপত্তি।
স্থানীয় প্রবীণরা বলেন, একসময় রুই মাছকে এ অঞ্চলে ‘ভূরুঙগা মাছ’ বলে ডাকা হতো। চারপাশের বিলঝিলে প্রচুর ‘ভূরুঙগা’ মাছ পাওয়া যেত। বর্ষায় পানি ভরলে গ্রামজুড়ে মৎস্যজীবীদের জাল টানার উৎসব লেগে থাকত।
কিন্তু এখন সেই দৃশ্য কেবলই স্মৃতি। জমিতে অতিরিক্ত কীটনাশক ও রাসায়নিক সার ব্যবহারের ফলে দেশীয় প্রজাতির মাছ দ্রুত হারিয়ে যাচ্ছে। এক সময়ের মাছের রাজ্য আজ নিঃশব্দ হয়ে পড়েছে।
ভৃরুঙগামারীর আরেক ঐতিহ্য হলো ঘোড়ার গাড়ি, যাকে অনেকে বলেন ‘টমটম’। এখনো উপজেলার বিভিন্ন সড়কে ঘোড়ার গাড়ির চলাচল চোখে পড়ে।
ভোরের নিস্তব্ধতা ভেঙে যখন পিচঢালা রাস্তায় ঘোড়ার খুরের খটখট শব্দ শোনা যায়, তখন কেউ ঘুম ভাঙার সুর পায়, কেউবা সেই শব্দেই জীবিকার ছন্দ খুঁজে নেয়।
এক সময় গ্রামের আধুনিক যানবাহন হিসেবেই বিবেচিত হতো এই ঘোড়ার গাড়ি। এখন তা প্রায় বিলুপ্তির পথে। তবুও ভৃরুঙগামারীর কিছু মানুষ এই ঐতিহ্যটিকে বুকে ধারণ করে জীবিকা চালিয়ে যাচ্ছেন সগর্বে।
তবে প্রশ্ন থেকেই যায়—আধুনিক যন্ত্রযানের প্রতিযোগিতায় এই ঐতিহ্য আর কতদিন টিকে থাকবে?


