চুয়াডাঙ্গা সংবাদদাতা
চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলায় যৌতুকের টাকা না পেয়ে সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে মারধর ও পেটে লাথি মারার অভিযোগ উঠেছে স্বামীর বিরুদ্ধে। এতে গর্ভে থাকা সাত মাসের সন্তান মারা গেছে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
ঘটনাটি ঘটেছে জীবননগর উপজেলার সীমান্ত ইউনিয়নের কয়া গ্রামে। ভুক্তভোগী শিখা খাতুন (১৮) এ ঘটনায় জীবননগর থানায় উপস্থিত হয়ে বিচার দাবি করেছেন।
স্থানীয় সূত্র ও ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগে জানা যায়, কয়া গ্রামের সাহাবুলের ছেলে বিপ্লব (২৪)-এর সঙ্গে একই গ্রামের সাইফুল ইসলামের মেয়ে শিখা খাতুনের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই বিপ্লব স্ত্রীর কাছে যৌতুক হিসেবে নগদ টাকা, মোটরসাইকেল ও মোবাইল ফোন দাবি করে আসছিল। দাবি পূরণ না হওয়ায় শিখার ওপর প্রায়ই শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালানো হতো।
অভিযোগ অনুযায়ী, গত ৩১ মে রাতে যৌতুকের দাবিতে শিখাকে মারধর করে বিপ্লব। পরে ২ জুন রাত ১০টার দিকে বাড়ি ফিরে আবারও এক লাখ টাকা, একটি মোটরসাইকেল ও একটি মোবাইল ফোন দাবি করে। শিখা তার বাবার আর্থিক অক্ষমতার কথা জানালে ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে বেধড়ক মারধর করে এবং পেটে জোরে লাথি মারে।
এতে গুরুতর অসুস্থ হয়ে শিখা মাটিতে লুটিয়ে পড়ে জ্ঞান হারান। পরে পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার গর্ভে থাকা সাত মাসের সন্তান গর্ভপাত হয়।
ভুক্তভোগী শিখা খাতুন বলেন, “আমার স্বামী আমার বাবার আর্থিক অবস্থা জেনেই বিয়ে করেছে। কিন্তু বিয়ের পর থেকেই টাকা ও জিনিসপত্রের জন্য চাপ দিত। না দিতে পারায় আমাকে প্রায়ই মারধর করত। ঘটনার দিন পেটে লাথি মারার পর জ্ঞান হারাই। পরে হাসপাতালে জানতে পারি আমার সন্তান আর বেঁচে নেই।”
এ বিষয়ে জীবননগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সোলায়মান শেখ বলেন, “ঘটনায় একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এ ঘটনার পর এলাকায় ব্যাপক ক্ষোভ ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। যৌতুকের দাবিতে এমন নির্মম নির্যাতনের ঘটনায় দোষীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।


