আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
ভারতে পরীক্ষা-সংক্রান্ত অনিয়মের অভিযোগ ঘিরে শুরু হওয়া বিক্ষোভ ক্রমেই তীব্র আকার ধারণ করছে। শিক্ষাব্যবস্থায় সংস্কার, জবাবদিহি নিশ্চিত করা এবং শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে শুরু হওয়া আন্দোলন এখন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সরকারের ওপরও রাজনৈতিক চাপ বাড়িয়েছে।
বুধবার (২২ জুলাই) রাজধানী নয়াদিল্লির যন্তর মন্তরে হাজারো বিক্ষোভকারী সমবেত হয়ে আন্দোলন চালিয়ে যান। প্রতিবাদকারীরা জানান, তাদের দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।
আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, সাম্প্রতিক বিভিন্ন জাতীয় পর্যায়ের পরীক্ষায় অনিয়ম ও প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় লাখো শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। এ পরিস্থিতিতে তারা শিক্ষাব্যবস্থায় সংস্কার, দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা এবং শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করছেন।
বিক্ষোভে দেশটির বিরোধী দলগুলোর সমর্থনও মিলেছে। কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী সরকারের কাছে আন্দোলনকারীদের ওপর কঠোর অবস্থানের ব্যাখ্যা দাবি করেছেন। সমাজবাদী পার্টির নেতা অখিলেশ যাদবও শিক্ষার্থীদের দাবির প্রতি সমর্থন জানিয়ে সরকারের ভূমিকার সমালোচনা করেন।
এদিকে আন্দোলন ঘিরে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করেছে পুলিশ। বিক্ষোভকারীদের পার্লামেন্টমুখী পদযাত্রা ঠেকাতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে ধস্তাধস্তি ও উত্তেজনার ঘটনাও ঘটেছে। আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, পুলিশ লাঠিচার্জ ও টিয়ারগ্যাস ব্যবহার করেছে। তবে এ বিষয়ে কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে বিস্তারিত কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
ভারতের মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা নিট-ইউজি-সংক্রান্ত অনিয়ম এবং মূল্যায়ন প্রক্রিয়া নিয়ে বিতর্কের জেরে শিক্ষার্থীদের ক্ষোভ আরও বেড়েছে। এই পরিস্থিতিতে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় শিক্ষাব্যবস্থার সংস্কার ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনার আশ্বাস দিয়েছেন।
এরই মধ্যে দিল্লির পাশাপাশি মুম্বাই, বেঙ্গালুরু ও গোয়াসহ বিভিন্ন শহরেও বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে বলে স্থানীয় গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে। ফলে পরিস্থিতি মোকাবিলায় মোদি সরকার কী পদক্ষেপ নেয়, সেদিকে নজর রয়েছে রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও সাধারণ মানুষের।
দ্রষ্টব্য: এই প্রতিবেদনে এমন কিছু দাবি রয়েছে, যেগুলোর স্বাধীন ও নির্ভরযোগ্য যাচাই এখনো পাওয়া যায়নি। তাই প্রকাশের আগে তথ্যগুলো বিশ্বস্ত আন্তর্জাতিক সংবাদসূত্র থেকে মিলিয়ে নেওয়া উচিত।


