চট্টগ্রাম সংবাদদাতা
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) প্রাণভোমরা হিসেবে পরিচিত ‘শাটল ট্রেন’ সংকট নিরসনে আগামীকাল সোমবার (৪ মে) রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। তবে এই বৈঠক থেকে যদি শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিনের দাবির প্রতিফলন না ঘটে, তবে চট্টগ্রামের সাথে সারাদেশের রেল যোগাযোগ অচল করে দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা।
আজ রবিবার (৩ মে) সকাল ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের জিরো পয়েন্ট এলাকায় ‘ভয়েস অব স্টুডেন্টস’ ব্যানারে এক অবস্থান কর্মসূচি পালিত হয়। তীব্র গরম আর ট্রেনের বগি সংকটে নাভিশ্বাস ওঠা শিক্ষার্থীরা প্ল্যাকার্ড হাতে বিক্ষোভে ফেটে পড়েন। এসময় তাদের মুখে “ছাত্র মরে গরমে, প্রশাসন থাকে এসিতে”, “এ মুহূর্তে দরকার শাটল সংস্কার” এবং “মূলা নয়, সংস্কার চাই”—এমন সব স্লোগান শোনা যায়।
কর্মসূচিতে ‘ভয়েস অব স্টুডেন্টস’-এর সভাপতি আশিকুর রহমান সাফ জানিয়ে দেন যে, প্রশাসন ও রেলওয়ের বৈঠকটি শিক্ষার্থীদের জন্য শেষ সুযোগ। তিনি বলেন:
“শাটল ট্রেনের ভোগান্তি এখন চরমে পৌঁছেছে। আমরা আর কোনো আশ্বাসে ভুলতে চাই না। আগামীকালকের বৈঠকে যদি কার্যকর এবং দৃশ্যমান কোনো সিদ্ধান্ত না আসে, তবে আমরা চট্টগ্রামের সাথে সারাদেশের রেল যোগাযোগ বন্ধ করে দেওয়ার মতো কঠোর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হব।”
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জানিয়েছে, শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি লাঘবে তারা আন্তরিক। সোমবারের বৈঠকে রেলওয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে বর্তমান সংকটের চিত্র তুলে ধরা হবে এবং দ্রুত সমাধানের পথ খোঁজা হবে।
শাটল ট্রেনকে কেন্দ্র করে চবি শিক্ষার্থীদের এই আল্টিমেটাম এখন চট্টগ্রামের রেল যোগাযোগ ব্যবস্থায় এক ধরণের অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। এখন সবার নজর আগামীকালের সেই বৈঠকের দিকে।


