মিলন চন্দ্র দেবনাথ, নওগাঁ
শহরের কোলাহল ছাপিয়ে কিছু মানুষ নিঃশব্দে সমাজকে আলোকিত করেন। তেমনই এক নিভৃতচারী ও প্রথিতযশা ব্যক্তিত্ব মো: বিন আলী পিন্টু। নওগাঁর সামাজিক ও সাংস্কৃতিক আন্দোলনের অন্যতম এই সারথিকে তাঁর দীর্ঘ তিন দশকের একনিষ্ঠ অবদানের জন্য বিশেষ সম্মাননা প্রদান করেছে জেলার ঐতিহ্যবাহী ও প্রগতিশীল সংগঠন ‘একুশে পরিষদ নওগাঁ’। শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) এক অনাড়ম্বর অথচ হৃদয়স্পর্শী অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই গুণী ব্যক্তিত্বের হাতে ‘সম্মাননা স্মারক’ তুলে দেওয়া হয়। ‘একুশে পরিষদ নওগাঁ’-র সভাপতি অ্যাডভোকেট ডি.এম আব্দুল বারী সংগঠনটির পক্ষে এই সম্মাননা স্মারক হস্তান্তর করেন ।
স্মৃতির পাতা উল্টালে দেখা যায়, ১৯৯৪ সালে যখন ‘একুশে উদযাপন পরিষদ’ (বর্তমান একুশে পরিষদ নওগাঁ) তার যাত্রা শুরু করে, তখন থেকেই এর প্রতিটি পদক্ষেপে মিশে ছিলেন বিন আলী পিন্টু। সংগঠনের প্রতিষ্ঠাকালীন সদস্য হিসেবে সূচনালগ্ন থেকেই সকল মানবিক ও সাংস্কৃতিক লড়াইয়ে নিজেকে বিলিয়ে দিয়েছেন তিনি। বর্তমানে তিনি সংগঠনটির উপদেষ্টা হিসেবে নতুন প্রজন্মের জন্য পথপ্রদর্শক হিসেবে কাজ করছেন।
১৯৫৮ সালে জন্ম নেওয়া এই গুণী মানুষটি ব্যক্তিগত জীবনে অত্যন্ত বিনয়ী ও সদালাপী। তাঁর পিতা মরহুম আশরাফ আলী ছিলেন একজন পুলিশ ইন্সপেক্টর এবং মাতা মরহুমা হালিমা বেগম ছিলেন একজন গৃহিণী । বাবার চাকরির সুবাদে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের পাশাপাশি রাজশাহীর সারদা পুলিশ একাডেমিতেও তাঁর শৈশবের কিছু সময় কেটেছে। ১৯৭৪ সালে তিনি নওগাঁ জিলা স্কুল থেকে কৃতিত্বের সাথে মেট্রিকুলেশন পাস করেন। পেশাগত জীবনে তিনি একজন সফল ও নীতিবান ব্যবসায়ী হিসেবে নওগাঁর আপামর জনসাধারণের কাছে পরম শ্রদ্ধার পাত্র। চার ভাই-বোনের মধ্যে তৃতীয় বিন আলী পিন্টু বর্তমানে ব্যবসায়িক ব্যস্ততা থেকে অবসর নিয়ে বই আর সংবাদপত্রের সান্নিধ্যে জ্ঞান অন্বেষণে সময় কাটাচ্ছেন।
সংগঠনের প্রতিটি সদস্যের কাছে তিনি এক চিরচেনা ও প্রিয় মুখ। তাঁর সুনিপুণ দিক-নির্দেশনা ও হাস্যোজ্জ্বল উপস্থিতি একুশে পরিষদের প্রাঙ্গণকে সবসময় প্রাণবন্ত করে রাখে। শিক্ষক ও গণমাধ্যমকর্মী মিলন চন্দ্র দেবনাথের ভাষায়, “তিনি কেবল একজন সংগঠক নন, তিনি একজন অভিভাবক। ছাত্রজীবন থেকে আজ পর্যন্ত তাঁর বড় ভাইয়ের মতো শাসন ও ভালোবাসা আমার জীবনের শ্রেষ্ঠ পাথেয়। তাঁর পরামর্শ ও সাহচর্য আমার জ্ঞানতৃষ্ণাকে সমৃদ্ধ করেছে।”
সম্মাননা প্রাপ্তির পর এক প্রতিক্রিয়ায় বিন আলী পিন্টু জানান, একুশে পরিষদ তাঁর হৃদয়ের স্পন্দন। এই স্বীকৃতি তাঁকে আমৃত্যু মানুষের কল্যাণে এবং অসাম্প্রদায়িক সমাজ গঠনে কাজ করে যাওয়ার নতুন অনুপ্রেরণা জোগাবে।
নওগাঁর সাংস্কৃতিক যোদ্ধারা মনে করেন, বিন আলী পিন্টুর মতো প্রচারবিমুখ ও নিবেদিতপ্রাণ মানুষকে সম্মাননা প্রদানের মাধ্যমে একুশে পরিষদ আসলে গুণীজন মূল্যায়নের এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করল। এমন মানুষের হাত ধরেই আগামীতে নওগাঁর সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অঙ্গন আরও সমৃদ্ধ হবে বলে সকলের বিশ্বাস।


