সীতাকুণ্ড (চট্টগ্রাম) সংবাদদাতা
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার ছোট কুমিরা নূরিয়া মাদ্রাসা থেকে আকিলপুর পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সড়কটি দীর্ঘ ৮–৯ বছর ধরে সংস্কারের অভাবে এখন কার্যত মৃত্যুফাঁদে পরিণত হয়েছে। বছরের পর বছর অবহেলা ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে সড়কের বিভিন্ন স্থানে অসংখ্য ছোট-বড় গর্ত সৃষ্টি হয়েছে। সামান্য বৃষ্টিতেই এসব গর্ত পানিতে তলিয়ে যায়, ফলে কোথায় রাস্তা আর কোথায় গভীর গর্ত—তা বোঝার উপায় থাকে না। এতে প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে বাধ্য হচ্ছেন প্রায় ১১ হাজার মানুষ।
স্থানীয়দের ভাষ্য, ছোট কুমিরা নূরিয়া মাদ্রাসা থেকে আকিলপুর পর্যন্ত এই সড়কটি এলাকার মানুষের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগপথ। প্রতিদিন এই সড়ক ব্যবহার করে বিভিন্ন গ্রাম থেকে মানুষ কর্মস্থল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, বাজার, হাসপাতাল ও সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে যাতায়াত করেন। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার না হওয়ায় সড়কটির বেহাল অবস্থা জনদুর্ভোগকে চরম পর্যায়ে পৌঁছে দিয়েছে।
সড়কজুড়ে সৃষ্টি হওয়া গর্তগুলো এখন যান চলাচলের জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করেছে। প্রতিদিন সিএনজি চালিত অটোরিকশা, মোটরসাইকেল, পিকআপ, ভ্যান, মালবাহী যানসহ বিভিন্ন ধরনের যানবাহন এই পথে চলাচল করে। কিন্তু ভাঙাচোরা সড়কের কারণে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটছে। অনেক সময় মোটরসাইকেল আরোহী ও অটোরিকশা উল্টে গিয়ে যাত্রী আহত হচ্ছেন। যানবাহনের যন্ত্রাংশ দ্রুত নষ্ট হয়ে যাওয়ায় চালকদের বাড়তি অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে। অনেক পরিবহনচালক বাধ্য হয়ে বিকল্প দীর্ঘ পথ ব্যবহার করছেন, ফলে সময় ও জ্বালানি—দুই ক্ষেত্রেই অতিরিক্ত ব্যয় বাড়ছে।
সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছে শিক্ষার্থীরা। প্রতিদিন এই সড়ক ব্যবহার করে বিভিন্ন স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসার হাজারো শিক্ষার্থী যাতায়াত করে। বর্ষাকালে সড়কের গর্তগুলো পানিতে ঢেকে যাওয়ায় তারা চরম অনিশ্চয়তা ও আতঙ্ক নিয়ে চলাচল করে। অভিভাবকরাও সন্তানদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগে থাকেন। অনেক শিক্ষার্থী বৃষ্টির দিনে বিদ্যালয়ে যেতে নিরুৎসাহিত হয়, যা তাদের নিয়মিত শিক্ষাগ্রহণেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
এছাড়া অসুস্থ রোগী, গর্ভবতী নারী, শিশু, বয়স্ক ব্যক্তি ও প্রতিবন্ধী মানুষের জন্য সড়কটি আরও বেশি ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। জরুরি মুহূর্তে রোগীকে হাসপাতালে নেওয়ার সময় অ্যাম্বুলেন্স কিংবা অন্যান্য যানবাহন চলাচলে মারাত্মক সমস্যা সৃষ্টি হয়। এতে চিকিৎসা সেবা পেতেও বিলম্ব হচ্ছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, দীর্ঘ ৮–৯ বছর ধরে সড়কটির কোনো বড় ধরনের সংস্কার করা হয়নি। মাঝে মধ্যে সামান্য মেরামতের উদ্যোগ নেওয়া হলেও তা ছিল অস্থায়ী এবং খুব অল্প সময়ের মধ্যেই আগের অবস্থায় ফিরে গেছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরে একাধিকবার বিষয়টি জানানো হলেও এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো উদ্যোগ চোখে পড়েনি।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, এই সড়কটি শুধু একটি গ্রামের নয়; আশপাশের একাধিক এলাকার মানুষের যাতায়াতের প্রধান মাধ্যম। প্রতিদিন প্রায় ১১ হাজার মানুষ এই পথ ব্যবহার করেন। অথচ বছরের পর বছর ধরে সড়কটির দুরবস্থা নিরসনে কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম হতাশা তৈরি হয়েছে।
তাদের দাবি, সড়কটির জরাজীর্ণ অবস্থা শুধু জনদুর্ভোগই বাড়াচ্ছে না, একই সঙ্গে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কাও সৃষ্টি করছে। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়। তাই আর কোনো আশ্বাস নয়, দ্রুত প্রকল্পের বাজেট অনুমোদন করে ছোট কুমিরা নূরিয়া মাদ্রাসা থেকে আকিলপুর পর্যন্ত পুরো সড়কটি টেকসইভাবে পুনর্নির্মাণ ও সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
স্থানীয়দের মতে, সময়মতো কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে ভবিষ্যতে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। জনস্বার্থে এবং নিরাপদ যোগাযোগ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ এখন সময়ের দাবি।


