বিশেষ প্রতিবেদকঃ
দরজায় কড়া নাড়ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। সারাদেশের মতো দেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের জেলা নওগাঁতেও বইছে ভোটের হাওয়া। নওগাঁর ছয়টি আসনের মধ্যে পাঁচটিতে বিএনপির প্রার্থী ঘোষণা করা হলেও নওগাঁ-৫ আসনে এখনও প্রার্থী ঘোষণা করেনি দলটি।
সদর উপজেলার ১২টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা নিয়ে গঠিত নওগাঁ-৫ আসন। আসনটিতে চলছে মনোনয়নপ্রত্যাশীদের দৌড়ঝাঁপ। সম্ভাব্য প্রার্থীদের অনুসারী নেতাকর্মীদের শোডাউন, ব্যানার, ফেস্টুনের পাশাপাশি স্যোশাল মিডিয়ায় চলছে ব্যাপক প্রচারণা।
গত ৩ নভেম্বর সারা দেশের ৩০০টি আসনের মধ্যে ২৩৭টি আসনে দলের মনোনীত প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করে বিএনপি। প্রার্থী ঘোষণা না করা ৬৩টি আসনের মধ্যে রয়েছে নওগাঁ-৫ আসন। তবে বিএনপির প্রার্থীদের নাম ঘোষণার আগে গত ২৭ অক্টোবর দলীয়ভাবে ডাক পান বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সমবায়বিষয়ক সম্পাদক নজমুল হক সনি, জেলা বিএনপির সভাপতি আবু বক্কর সিদ্দিক নান্নু, সাধারণ সম্পাদক মামুনুর রহমান রিপন ও নওগাঁ পৌর বিএপির সবাপতি শেখ মিজানুর রহমান।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান সম্ভাব্য মনোনয়ন প্রত্যাশীদের একত্রে কাজ করার কঠোর নির্দেশসহ নানান বার্তা দেন। ঢাকায় ডাক পাওয়া উল্লিখিত নেতারা ছাড়াও মনোনয়নপ্রত্যাশী হিসেবে আরও মাঠে গণসংযোগ করছেন, জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক মাসুদ হাসান তুহিন ও সাবেক ছাত্রনেতা মাহবুবুর রহমান ডাবলু। চায়ের স্টলে, বাজারে এখন জোরেশোরে একটাই আলোচনা চলছে নওগাঁ-৫ আসনে কে পাচ্ছেন ধানের শীষের টিকিট?
তবে গুঞ্জন আছে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সঙ্গে বিএনপির জোট হলে এ আসনটি ফাঁকা রাখা হবে। এ আসনে এনসিপি দলটির যুগ্ন আহ্বায়ক মনিরা শারমিনের নাম ঘোষণা করেছে।
জানা যায়, ১৯৯১ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচনে দুইবার ধানের শীষ ও দুইবার নৌকাকে বিজয়ী করেছে এ আসনের ভোটাররা। তবে আওয়ামী লীগের গত সাড়ে ১৫ বছরের শাসনামলে নওগাঁ পৌরসভার তিনটি নির্বাচনে জয় পায় বিএনপির প্রার্থী। এ আসনে ভোটের মাঠে বর্তমানে বিএনিপর আধিপত্য বেশি বলে মনে করছেন এ এলাকার জনগণ।
এ আসনের নির্বাচনি মাঠের পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, জুলাই বিপ্লবের মাধ্যমে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর সবচেয়ে সুবিধাজনক অবস্থানে থেকেও বিএনপি নজিরবিহীন সংকটে পড়েছে। দলটির বড় সমস্যা দলের নেতাদের মধ্যে অনৈক্য। দলের মনোনয়ন ঘিরে তৈরি হয়েছে তীব্র কোন্দল, যা তৃণমূলকে বিভক্ত ও হতাশ করছে। এছাড়া আসনটি জোট সঙ্গীর জন্য ছাড় দেওয়া হতে পারে এমন গুঞ্জনে চরম হতাশা বিরাজ করছে মনোনয়নপ্রত্যাশী বিএনপি নেতা ও তাঁদের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে।
বিএনপির এমন নির্বাচনকেন্দ্রিক অন্তর্কোন্দল সুসংগঠিত দল জামায়াতে ইসলামীর জন্য একটি বড় সুযোগ হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। বিএনপির অগোছালো পরিস্থিতির সম্পূর্ণ বিপরীতে জামায়াতে ইসলামী অত্যন্ত গোছানোভাবে প্রচার চালাচ্ছে। অনেক আগেই এ আসনে জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি আ স ম সায়েমকে প্রার্থী হিসেবে চূড়ান্ত করেছে দলটি। জামায়াতের নেতাকর্মীরা দলীয় ও সামাজিক কর্মসূচির মাধ্যমে প্রতিটি এলাকায় নিজেদের সাংগঠনিক ভিত্তি মজবুত করছে। বিএনপির কোন্দলকে কাজে লাগিয়ে তারা ভোটারদের নিজেদের দিকে টানতে পারে বলে ধারণা করছেন দলটির সমর্থকরা।
বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশী কেন্দ্রীয় বিএনপির সহ-সমবায়বিষয়ক সম্পাদক নজমুল হক সনি বলেন, ‘আমি আওয়ামী লীগ শাসনামলে নির্বাচন করে পরপর তিনবার নওগাঁ পৌরসভার মেয়র নির্বাচিত হয়েছি। পাশাপাশি দলকে সংগঠিত করে আন্দোলন-সংগ্রামে সামনে থেকে নেতৃত্বে দিয়েছি। এখন পর্যন্ত দলীয় মনোনয়নের ব্যাপারে আমি আশাবাদী।’
জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মামুনুর রহমান রিপন বলেন, ‘সদর উপজেলায় দলের নির্যাতিত, মামলা হামলায় ক্ষতিগ্রস্থ নেতাকর্মীদের পাশে থেকে ফ্যাসিস্ট সরকারবিরোধী আন্দোলনে সক্রিয় ছিলাম। আমি নিজেও বারবার কারা নির্যাতিত হয়েছি। একাধিক মামলা হয়েছে আমার বিরুদ্ধে। জলুম-নির্যাতন সত্ত্বেও স্থানীয় তৃণমূল বিএনপি ও কেন্দ্রের নির্দেশনা অনুযায়ী কাজ করছি। এ কারণে দল অবশ্যই আমাকে বিবেচনা করবে। আমি মনোনয়ন পেলে বিপুল ভোটে বিজয় লাভ করব।’
বিএনপির আরেক মনোনয়নপ্রত্যাশী জাহিদুল ইসলাম ধলু বলেন, ‘বিগত ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার আমলে বিএনপিকে সুসংগঠিত করে রেখেছি। ২০১৮ সালে দল আমার ওপর আস্থা রেখে দলের প্রার্থী ঘোষণা করেছিল। কিন্তু দিনের ভোট রাতে হওযায় আমার বিজয় ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছিল। আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে দলের ৩১ দফা নিয়ে মাঠে কাজ করছি। বিএনপির মনোনয়ন পেলে আসনটিতে ধানের শীষকে বিপুল ভোটে নির্বাচিত করতে পারব।’


