ডেস্ক রিপোর্টঃ
১৬ মাস বয়সের শিশু সন্তানকে সেতু থেকে নদে ফেলে দিয়ে এসে থানায় আত্মসমর্পণ করেছেন এক মা। ওই মায়ের কথা শুনে নদীতে নিখোঁজ শিশুটির খোঁজে ঘটনাস্থলে ছুঁটে যান পুলিশ। সেখানে গিয়ে পুলিশ দেখতে পায় শিশুটিকে পানি থেকে উদ্ধার করে নদীর তীরে প্রাথমিক শুশ্রুষা করছেন এক ব্যক্তি। উদ্ধার হওয়া শিশুটি বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে নওগাঁর পত্নীতলা উপজেলার মাহমুদপুর সেতু থেকে শিশুটিকে আত্রাই নদে ফেলে দেন ওই মা। পরিবারের লোকজনের দাবি, ওই নারী মানসিকভাবে অসুস্থ।
পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দা সূত্রে জানা যায়, উপজেলার নজিপুর পৌরসভার পুরাতন হাট এলাকার বাসিন্দা মেহেদী হাসানের স্ত্রী মুনতাহিনা মুন (২২) ১৬ মাস আগে একটি মেয়ে শিশুর জন্ম দেন। ওই শিশুর জন্মের পর থেকেই মুনতাহিনা অস্বাভাবিক আচরণ করতে থাকেন। তিনি স্বামীর সঙ্গে সংসার করবেন না এমন অভিব্যক্তি ব্যক্ত করেন। নিজের কন্যা সন্তানকে তিনি সহ্য করতে পারতেন না। আজ দুপুর ১২টার দিকে নিজের কন্যাশিশুকে নিয়ে বাড়ি থেকে বের হয়ে যান মুনতাহিনা। বাড়ি থেকে প্রায় ৫০০ মিটার দূরে গিয়ে মাহমুদপুর সেতুর ওপর থেকে নিজের সন্তানকে ফেলে দেন। শিশুকে ফেলে দিয়ে পত্নীতলা থানায় এসে বলেন, তিনি তাঁর সন্তানকে নদীতে ফেলে দিয়েছেন। এজন্য তাঁকে গ্রেপ্তার করতে বলেন তিনি। এমন কথা শুনে পুলিশ সঙ্গে সঙ্গে ঘটনাস্থলে গিয়ে শিশুটির খোঁজ করতে শুরু করেন। একপর্যায়ে পুলিশ দেখতে পায়, নদীর তীরে শিশুটির প্রাথমিক শুশ্রুষা করছেন এক ব্যক্তি। পরে ওই ব্যক্তির কাছ থেকে শিশুটিকে উদ্ধার করে পুলিশ শিশুটিকে পত্নীতলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। শিশুটি বর্তমানে শঙ্কামুক্ত বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে।
পত্নীতলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান বলেন, দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ২১-২২ বছর বয়সী এক নারী থানায় এসে কান্নারত অবস্থায় বলেন, তিনি তাঁর মেয়েকে ব্রিজ থেকে আত্রাই নদীতে ফেলে দিয়েছেন। প্রথমে তাঁর এ কথা আমার বিশ্বাস হয়নি। তারপরেও সে বারবার একই কথা বলতে থাকায়, আমরা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুঁটে যাই। ঘটনাস্থলে শিশুটিকে খুঁজতে থাকি। একপর্যায়ে দেখতে পাই নদীর তীরে শিশুটির শুশ্রুষা করছেন এক ব্যক্তি। খমির শেখ (৬৫) নামের ওই ব্যক্তি শিশুটিকে নদীর পানিতে ডুবন্ত অবস্থায় উদ্ধার করে। শিশুটিকে উদ্ধার করে সঙ্গে সঙ্গে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করে শিশুর পেট থেকে পানি বের করে দেন। পরে শিশুটিকে আমরা হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে ভর্তি করাই। শিশুটি বর্তমানে শঙ্কামুক্ত। পরিবারের অন্য লোকজন বর্তমানে শিশুটির দেখভাল করছেন।
শিশুটির বাবা মেহেদী হাসান বলেন, ‘আমার স্ত্রী কিছুদিন যাবত মানসিক সমস্যায় ভুগছেন। যার কারণে এমন ঘটনা ঘটেছে। কিন্তু এতটা পাগলামি করবে এটা আমরা ভাবতে পারিনি। তার চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বর্তমানে আমার মেয়ের দেখভাল পরিবারের অন্য লোকজন করছে। মানসিকভাবে অসুস্থ হওয়ায় আমার স্ত্রীকে মেয়ের পাশে যেতে দেওয়া হচ্ছে না।’
এ বিষয়ে নওগাঁর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম বলেন, ‘যেহেতু ওই মা মানসিকভাবে অসুস্থ এজন্য তাঁর বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। ওই মাকে পরিবারের লোকজনের হেফাজতে দেওয়া হয়েছে। আশা করছি, পরিবারের লোকজন তাঁর উত্তম চিকিৎসা করবেন। যে ব্যক্তি শিশুটিকে পানি থেকে উদ্ধার করে শিশুটির জীবন বাঁচিয়েছে তাঁকে পুলিশ বিভাগের পক্ষ থেকে আর্থিকভাবে পুরষ্কৃত করা হয়েছে।’


