লোকমান আলী, নওগাঁ
নওগাঁর মহাদেবপুরে জমিজমা নিয়ে বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষের হাসুয়ার আঘাতে বাবা-ছেলে গুরুত্বর আহতের ঘটনায় থানায় মামলা হলেও পুলিশ আসামী ধরছে না বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগীরা। মামলা করার ৭দিন পেরিয়ে গেলেও থানা পুলিশ এখনো কোন আসামীকে গ্রেফতার করতে পারেনি। আসামীরা বিভিন্ন ভাবে হুমকি-ধামকি দিচ্ছে। এতে ন্যায় বিচার পাওয়া নিয়ে শঙ্কা দেখা দিয়েছে ভুক্তভোগীদের মাঝে।
আহতরা হলেন- উপজেলার হরিরামনগর (মধুবন)গ্রামে আদম উদ্দীন (৫৬) ও তার ছেলে আহমেদ আল জুবায়ের (৩১)।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়- উপজেলার হরিরামনগর (মধুবন)গ্রামের ইন্তেখাব আলম চঞ্চল, মোহায়মেনুল ইসলাম দুলাল ও সাহাদত গংরা ভুক্তভোগীর প্রতিবেশী। দীর্ঘদিন থেকে জমিজমা নিয়ে তাদের সাথে বিরোধ চলে আসছিল। গত শনিবার (৩০ মে) সকাল ১০ টায় ভুক্তভোগী আদম উদ্দীন তার ছেলে আহমেদ আল জুবায়েরকে নিয়ে বাড়ির সামনে দখলে থাকা জমিতে তার কাটা দিয়ে বেড়া দেওয়ার কাজ করছিলেন। এসময় ইন্তেখাব আলম চঞ্চল, মোহায়মেনুল ইসলাম দুলাল ও সাহাদত গংরা এসে হাসুয়া, লোহার রড ও বাঁশের লাঠিসহ দেশীয় অস্ত্র কাজে বাঁধা প্রদান করেন। এসময় দুইপক্ষের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে প্রতিপক্ষরা হাসুয়া দিয়ে আহমেদ আল জুবায়েরের মাথায় আঘাত করে রক্তাত্ত জখম করে। এছাড়া লাঠি দিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে এলোপাতাড়ি মারধর করা হয়।
ছেলেকে রক্ষা করতে গিয়ে হাসুয়ার আঘাতে আদম উদ্দীনের বাম হাতে কনুইয়ে নিচে কেটে রক্তাত্ত জখম হয়। তাদের ডাকচিৎকারে এলাকাবাসীরা এগিয়ে আসলে প্রতিপক্ষরা চলে যায়। পরে তাদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। আহমেদ আল জুবায়েরের অবস্থা গুরুত্বর হওয়ায় তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। কিছুটা সুস্থত হয়ে তিনদিন পর ভুক্তভোগী আদম উদ্দীন বাদী হয়ে ১১জনকে আসামী করে থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলার পর ৮ জন আসামী আদালত থেকে জামিন নেন। তবে ইন্তেখাব আলম চঞ্চল, মোহায়মেনুল ইসলাম দুলাল ও সাহাদত তারা জামিন পাননি।
ভুক্তভোগী আদম উদ্দীন অভিযোগ করে বলেন- ঘটনার পর থেকে আসামীরা প্রকাশ্যে এলাকায় ঘুরে বেড়ায়। কিন্তুর মামলার ৭দিন পেরিয়ে গেলেও পুলিশ আসামীদের গ্রেফতার করছে না। আমরা আতঙ্কের মধ্যে দিন পারছি। ন্যায় বিচার পাওয়া নিয়েও শঙ্কা দেখা দিয়েছে।
তবে এ ব্যাপারে প্রতিপক্ষরা কোন মন্তব্য করতে চান না।
মহাদেবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওমর ফারুক বলেন- আসামীরা পলাতক থাকায় এলাকায় তাদের পাওয়া যাচ্ছে না। আসামীদের গ্রেফতার করার জন্য একাধিকবার এলাকায় অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। তবে বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে।


