রাণীনগর (নওগাঁ) প্রতিনিধি
নওগাঁর রাণীনগরে ছোট যমুনা নদী থেকে অবৈধভাবে ড্রেজার মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে মো. গুলবর নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের সরকারি কাজের অজুহাতে ছোট যমুনা নদীর উপজেলার মালঞ্চি বেড়িবাঁধ এলাকায় নদী থেকে অবৈধভাবে এই বালু উত্তোলন করা হচ্ছে।
জানা গেছে, ছোট যমুনা নদীর রাণীনগর উপজেলার অংশে বালু উত্তোলনের জন্য কোন পয়েন্টে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ইজারা বা অনুমতি দেওয়া নেই। অথচ প্রভাবশালীদের ছত্রছায়ায় গুলবর নামে ওই ব্যক্তি এক ঠিকাদারের সাথে চুক্তি করে ইজারা বা অনুমতি ছাড়াই ছোট যমুনা নদীর উপজেলার মালঞ্চি বেড়িবাঁধ এলাকায় ড্রেজার মেশিন দিয়ে নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে আসছে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, উপজেলার মালঞ্চি বেড়িবাঁধের কয়েকটি স্থানে ভাঙা রয়েছে। এতে হুমকিতে রয়েছে বেড়িবাঁধ ও বসতবাড়ি। ভাঙা স্থানের পাশে নদীতে বড় একটি ড্রেজার মেশিন বসানো হয়েছে। মঙ্গলবার থেকে নদীর ওই পয়েন্ট থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় কয়েকজন জানান, বেড়িবাঁধের ভাঙন রোধে ও ভাঙা স্থান মেরামতের উদ্যোগ এলাকার বাসিন্দাদের জন্য খুবই ভালো। কিন্তু বেড়িবাঁধের ভাঙা জায়গার পাশে নদী থেকে বালু উত্তোলন করার ফলে নদীর ধারের বেড়িবাঁধের ক্ষতির শঙ্কা ও নদীর ওপারের কৃষকদের জমির ক্ষতি হওয়া সম্ভাবনা রয়েছে। তাদের দাবি- নদী থেকে বালু উত্তোলন না করে বাহির থেকে বালু সংগ্রহ করে জিও ব্যাগের ম্যাধামে বেড়িবাঁধের ভাঙা স্থান মেরামত করার।
অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে বালু উত্তোলনকারী মো. গুলবর বলেন, পানি উন্নয়ন বোর্ডের কাজের জন্য ঠিকাদারের সাথে চুক্তিতে আমি বালু উত্তোলন করে দিচ্ছি। নদী থেকে বালু উত্তোলনের কোন অনুমতি আছে কিনা প্রশ্নে তিনি বলেন, পানি উন্নয়ন বোর্ড ও প্রশাসন বালু উত্তোলনের অনুমতি দিয়েছে। তবে অনুমতির কোন কাগজ দেখাতে পারেননি তিনি।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, উপজেলার মালঞ্চি এলাকায় বেড়িবাঁধের ভাঙা কয়েকটি স্থানে জিও ব্যাগের মাধ্যমে ভাঙা স্থান মেরামতের উদ্যোগ নেয় নওগাঁ পানি উন্নয়ন বোর্ড। তবে এ মেরামত কাজে মোট কত টাকা বরাদ্দ এবং কোন ঠিকাদার কাজটি পেয়েছেন সে বিষয়ে নওগাঁ পানি উন্নয়ন বোর্ড থেকে কোন তথ্য দেওয়া হয়নি।
জানতে চাইলে নওগাঁ পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী (অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত) মো. আবু জোবায়ের মুঠোফোনে বলেন, কাজের ঠিকাদার কোথায় থেকে বালু নিয়ে আসবে সেটা তাদের বিষয়। আমরা নদী থেকে বালু উত্তোলনের কোন অনুমতি দিইনি।
এ ব্যাপারে রাণীনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রাকিবুল হাসান বলেন, আপনাদের (সাংবাদিকদের) মাধ্যমে বালু উত্তোলনের বিষয়টি শুনলাম। সত্যতা পাওয়া গেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


