রাণীনগর (নওগাঁ) প্রতিনিধি
নওগাঁর রাণীনগরে অসহায় এক পরিবারের তিনটি গরু চুরির ঘটনায় পুলিশ অভিযান চালিয়ে আন্ত:জেলা চোর চক্রের তিন সদস্যকে গ্রেফতার করেছে। বৃহস্পতিবার তাদের আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। এর আগে বুধবার নাটোরের সিংড়া উপজেলার চৌগ্রাম এলাকা থেকে দ্ইুজনকে ও নলডাঙ্গা থানা এলাকা থেকে একজনকে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারকৃত তিনজন হলেন, ময়মনসিংহ জেলার নান্দাইল উপজেলার আতারামপুর গ্রামের কুদরত আলীর ছেলে হাবিবুর রহমান (৪২), জয়পুরহাট জেলার পাঁচবিবি উপজেলার মইপুর গোপালপুর গ্রামের মোস্তাক আলীর ছেলে ফেরদৌস আলী (২৬) এবং নওগাঁর আত্রাই উপজেলার কাশিয়াবাড়ী গ্রামের আজমত দেওয়ানের ছেলে আসলাম দেওয়ান (৪৩)।
রাণীনগর থানার ওসি মো. জাকারিয়া মন্ডল জানান, গত ১০ জুলাই উপজেলার গোনা দিঘীরপার গ্রামের খোকন সরদারের গোয়াল ঘর থেকে তিনটি গরু চুরি হয়ে যায়। এ ঘটনায় ১২ জুলাই খোকন সরদার বাদী হয়ে থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলার প্রেক্ষিতে গোয়েন্দা তথ্য ও তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় পুলিশ অভিযান শুরু করে। অভিযানে প্রথমত কুখ্যাত গরু চোর আসলাম দেওয়ানকে র্যাবের সহযোগীতায় নলডাঙ্গা থানা এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতার আসলামকে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে সে জানায় তার ৪-৫ জনের একটি গ্রুপ রয়েছে। ওই গ্রুপের চারজনের বাড়ি ময়মনসিংহ, জয়পুরহাট, নওগাঁ এবং বগুড়া। জিজ্ঞাসাবাদে আসলাম আরও জানায় গত ১৫ জুলাই ভোররাতে নাটোরের সিংড়া থেকে তারা গরু চোর কয়জন একসাথে একটি পিকআপ যোগে আবার গরু চুরি করতে বের হবে। তার দেওয়া তথ্য মোতাবেক থানা পুলিশের বিশেষ দল সিংড়া এলাকায় গরু চোরদের গ্রেফতার করতে স্থানীয় পুলিশের সহযোগিতায় অভিযান চালায়। রাত আনুমানিক ৩টা থেকে রাণীনগর থানা পুলিশ সিংড়া থানা এলাকার চৌগ্রাম বাজারে ওৎ পেতে থাকে। ভোর আনুমানিক সাড়ে ৫টা থেকে ৬টার মধ্যে গরু চোর চক্রের দল একটি পিকআপসহ ওই এলাকায় আসলে রাণীনগর থানা পুলিশ পিকআপটিকে ধাওয়া করতে থাকে। এ সময় পিকআপটি বেপরোয়া গতিতে চালাতে থাকে এবং কয়েকবার পুলিশের পিকআপকে মহাসড়কে ধাক্কা মারার চেষ্টা করে।
এরপর রাণীনগর থানা পুলিশ চৌগ্রাম এলাকায় আঞ্চলিক সড়কে বেরিকেট দেওয়ার চেষ্টা করে। কিন্তু গরুচোর চক্র তাদের পিকআপটি বেপরোয়া গতিতে পুলিশের উপর উঠিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে সেই সাথে রাস্তার পাশে জনগণের বেশ কয়েকটি দোকান ভেঙে চলে যায়। এ সময় পুলিশের সাথে স্থানীয় জনগণ গরু চোরের পিকআপকে ধাওয়া করে। একপর্যায়ে পিকআপ থেকে নেমে দুইজন গরু চোর চৌগ্রাম এলাকায় একটি বড় কচুরিপানা ভর্তি জলাশয়ে পালিয়ে যাওয়ার জন্য ঝাঁপ দেয়। অপর দুই চোর পিকআপ নিয়ে পালিয়ে যায়।
পরে রাণীনগর থানা পুলিশ, সিংড়া থানা পুলিশ এবং বিপুল সংখ্যক স্থানীয় জনসাধারণ ওই পুকুরটি ঘিরে রাখে। সকাল ৭টা থেকে ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ এবং স্থানীয় জনসাধারণ জলাশয়ে চোরদের খুঁজতে থাকে। প্রায় ৮ ঘন্টা পর গরু চোর হাবিবুর রহমান ও ফেরদৌস আলীকে আটক করতে সক্ষম হয়।
ওসি আরও জানান, গ্রেফতারকৃত তিনজনকে বৃহস্পতিবার আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। আদালতে আসামীদের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দির জন্য আবেদন করা হয়েছে। স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি পাওয়া গেলে অন্যান্য স্থানে ঘটে যাওয়া বিভিন্ন চুরি-ডাকাতির বিষয়েও আরো চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়া যাবে।


