সাগর মিয়া,রংপুরঃ
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের প্রথম শহীদ আবু সাঈদের কবর জিয়ারত করেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।
শনিবার (২৪ জানুয়ারি) সকালে রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার মদনখালী ইউনিয়নের বাবনপুর গ্রামে তিনি এ কবর জিয়ারত করেন। জিয়ারত শেষে শহীদ আবু সাঈদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন জামায়াত আমির।
তিনি শহীদের আত্মত্যাগ ও সাহসিকতার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা প্রকাশ করেন। এ সময় আবু সাঈদের বাবা মকবুল হোসেনকে বুকে জড়িয়ে ধরে সান্ত্বনা দেন ডা. শফিকুর রহমান। শহীদের বাড়ির উঠানে বক্তব্যে তিনি বলেন, “আবু সাঈদসহ সব শহীদদের স্বপ্ন বাস্তবায়নে আমরা ইনশাআল্লাহ আমাদের সংগ্রাম চালিয়ে যাব।
ন্যায়, ইনসাফ ও জবাবদিহিতার ভিত্তিতে একটি আদর্শ বাংলাদেশ গড়তে আমরা সবাইকে নিয়ে এগিয়ে যেতে চাই।” তরুণ ও যুবক ভোটারদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, “যুবসমাজের প্রতি আমাদের অঙ্গীকার—আল্লাহ আমাদের তাওফিক দিলে তোমাদের প্রত্যাশার বাংলাদেশ আমরা গড়ে তুলব ইনশাআল্লাহ। এই সমাজের নেতৃত্ব তোমাদের হাতে তুলে দিয়ে আমরা পেছন থেকে শক্তি ও সাহস জোগাব।”
আগামী নির্বাচনে প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানিয়ে জামায়াত আমির আরও বলেন, “তোমরা তৈরি হও, যেন তোমাদের ভোটের প্রকৃত প্রতিফলন ঘটে। কেউ যাতে তোমাদের ভোট নিয়ে ছিনিমিনি খেলতে না পারে, সে জন্য জুলাই যোদ্ধা হয়ে আবারও লড়াই করতে হবে। জনতার বিজয় ছিনিয়ে আনতে হবে।”
এ সময় উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আব্দুল হালিম, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য অধ্যক্ষ মাওলানা মমতাজ উদ্দিন, রংপুর-৬ আসনের প্রার্থী মাওলানা নুরুল আমিন, রংপুর-৪ আসনের প্রার্থী ও এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন, বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি সিবগাতুল্লাহসহ জামায়াত ও ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।
কবর জিয়ারত শেষে জামায়াতের আমির সড়কপথে গাইবান্ধার পলাশবাড়ীর উদ্দেশ্যে রওনা হন। সেখানে তিনি একটি নির্বাচনী সমাবেশে বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে। উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ১৬ জুলাই বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে পুলিশের গুলিতে নিহত হন আবু সাঈদ।
তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের ২০১৯–২০২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন এবং বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।


