সাগর মিয়া (রংপুর) প্রতিনিধিঃ
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণের লক্ষ্যে রংপুর জেলার ছয়টি সংসদীয় আসনে প্রার্থীদের দাখিল করা মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে। যাচাই-বাছাই শেষে ত্রুটিপূর্ণ মনোনয়নপত্রের কারণে ছয়টি আসনে মোট ১২ জন প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল করেছেন জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা।
এ ছাড়া যাচাই-বাছাইয়ে ৪৪ জন প্রার্থীকে বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। শনিবার (৩ জানুয়ারি) সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত রংপুর জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে রংপুর-৫ (মিঠাপুকুর) ও রংপুর-৬ (পীরগঞ্জ) আসনের প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই করেন রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ এনামুল আহসান।
এর আগে বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) রংপুর-১ ও রংপুর-২ এবং শুক্রবার (২ জানুয়ারি) রংপুর-৩ ও রংপুর-৪ এবং ৩ জানুয়ারি রংপুর -৫ ও রংপুর -৬ আসনের মনোনয়ন যাচাই-বাছাই সম্পন্ন হয়। মনোনয়ন বাতিল হওয়া ১২ জন প্রার্থীর মধ্যে জাতীয় পার্টি, বিএনপির মনোনয়নবঞ্চিত স্বতন্ত্র, বামপন্থি দল ও এবি পার্টির প্রার্থী রয়েছেন।
এতে করে কয়েকটি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার সমীকরণে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে বলে মনে করছেন স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। মনোনয়ন বাতিল হওয়া প্রার্থীরা হলেন—
রংপুর-১ (গঙ্গাচড়া ও আংশিক সিটি কর্পোরেশন) আসনে জাতীয় পার্টির প্রার্থী ব্যারিস্টার মঞ্জুম আলী। রংপুর-৩ (সদর ও সিটি কর্পোরেশন) আসনে বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের (মার্কসবাদী) আনোয়ার হোসেন বাবলু এবং বিএনপির মনোনয়নবঞ্চিত স্বতন্ত্র প্রার্থী রিটা রহমান।
রংপুর-৪ (পীরগাছা-কাউনিয়া) আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী শাহ্ আলম বাশার, মো. জয়নুল আবেদিন ও জাতীয় পার্টির (আনিস-রুহুল) মো. আব্দুস ছালাম। রংপুর-৫ (মিঠাপুকুর) আসনে আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টির মো. আব্দুল বাছেত মারজান এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী খন্দকার মুকিত আল মাহমুদ। রংপুর-৬ (পীরগঞ্জ) আসনে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) মো. কামরুজ্জামান, স্বতন্ত্র প্রার্থী খন্দকার শাহিদুল ইসলাম, এস এম শাহ্ জামান রওশন ও তাকিয়া জাহান চৌধুরী। রিটার্নিং কর্মকর্তা কার্যালয় সূত্র জানায়, রংপুর জেলার ছয়টি সংসদীয় আসনে মোট ৫৬ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল করেছিলেন।
যাচাই-বাছাই শেষে এর মধ্যে ৪৪ জন প্রার্থী বৈধ হিসেবে বিবেচিত হয়েছেন। আসনভিত্তিক বৈধ প্রার্থীর চিত্র রংপুর-১ আসনে ৯ জনের মধ্যে ৮ জন বৈধ। রংপুর-২ আসনে ৫ জনের সবাই বৈধ। রংপুর-৩ আসনে ১০ জনের মধ্যে ৮ জন বৈধ। রংপুর-৪ আসনে ১০ জনের মধ্যে ৭ জন বৈধ। রংপুর-৫ আসনে ১১ জনের মধ্যে ৯ জন বৈধ।রংপুর-৬ আসনে ১১ জনের মধ্যে ৭ জন বৈধ।
রংপুরের ৬ টি আসনের বৈধ প্রার্থীরা হলেন, রংপুর-১ আসনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ—এটিএম গোলাম মোস্তফা বাবু, বাসদ (মার্কসবাদী) আহসানুল আরেফিন, ইসলামী ফ্রন্ট বাংলাদেশ মো. আনাস, খেলাফত মজলিস মো. মমিনুর রহমান, জামায়াতে ইসলামী রায়হান সিরাজী, বিএনপি মোকাররম হোসেন সুজন, গণঅধিকার পরিষদ হানিফ খান সজিব, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) আল মামুন। রংপুর-২ আসনে বিএনপি মোহাম্মদ আলী সরকার, জাতীয় পার্টি আনিছুল ইসলাম মণ্ডল, জামায়াতে ইসলামী এটিএম আজহারুল ইসলাম, জেএসডি মো. আজিজুর রহমান, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মো. আশরাফ আলী। রংপুর-৩ আসনে বাসদ আব্দুল কুদ্দুছ, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মো. আমিরুজ্জামান পিয়াল, খেলাফত মজলিস তৌহিদুর রহমান মণ্ডল, বিএনপি সামসুজ্জামান সামু, জাতীয় পার্টি জিএম কাদের, জামায়াতে ইসলামী মাহবুবুর রহমান বেলাল, খেলাফত মজলিস মো. নূর আলম সিদ্দিক, স্বতন্ত্র (তৃতীয় লিঙ্গ) মোছা. আনোয়ারা ইসলাম রানী।
রংপুর-৪ আসন আসনে বিএনপির মোহাম্মদ এমদাদুল হক ভরসা, বাসদ (মার্কসবাদী) প্রগতি বর্মণ তমা, খেলাফত মজলিস আবু সাহমা, জাতীয় নাগরিক পার্টি আখতার হোসেন, বাংলাদেশ কংগ্রেস উজ্জল চন্দ্র রায়, জাতীয় পার্টি আবু নাসের শাহ্ মো. মাহবুবার রহমান, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মো. জাহিদ হোসেন। রংপুর-৫ আসনে বাসদ (মার্কসবাদী) মো. বাবুল আক্তার, বাসদ মো. মমিনুল ইসলাম, বিএনপি মো. গোলাম রব্বানী, জামায়াতে ইসলামী মো. গোলাম রব্বানী, সিপিবি মো. আবু হেলাল, জাতীয় পার্টি এস এম ফখর উজ জামান জাহাঙ্গীর, নাগরিক ঐক্য মোফাখখারুল ইসলাম নবাব, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মো. গোলজার হোসেন, খেলাফত মজলিস মো. আনোয়ার হুসাইন।
বিএনপি মো. সাইফুল ইসলাম, খেলাফত মজলিস মুহাম্মদ মাহবুবুর রহমান, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ সুলতান মাহমুদ, জামায়াতে ইসলামী মো. নুরুল আমীন, জাতীয় পার্টি মো. নূর আলম মিয়া, এবি পার্টি মো. ছাদেকুল ইসলাম, স্বতন্ত্র আবু জাফর মো. জাহিদ।
রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ এনামুল আহসান বলেন, টানা তিন দিন ধরে রংপুরের ছয়টি সংসদীয় আসনের প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই সম্পন্ন করা হয়েছে। যাদের মনোনয়ন বাতিল হয়েছে তারা আইন অনুযায়ী নির্বাচন কমিশনে আপিল করতে পারবেন। আশা করি সব প্রার্থী নির্বাচনী আচরণবিধি মেনে শান্তিপূর্ণভাবে প্রচারণা পরিচালনা করবেন।
মনোনয়ন বাতিল হওয়া প্রার্থীরা আগামী ৫ জানুয়ারি থেকে ৯ জানুয়ারি পর্যন্ত নির্বাচন কমিশনে আপিল দায়ের করতে পারবেন। এসব আপিল নিষ্পত্তি হবে ১০ থেকে ১৮ জানুয়ারি। ২০ জানুয়ারি প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন।
২১ জানুয়ারি চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ ও প্রতীক বরাদ্দ। ২২ জানুয়ারি থেকে শুরু হবে নির্বাচনী প্রচারণা, যা চলবে ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টা পর্যন্ত। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে ১২ ফেব্রুয়ারি।


