বরেন্দ্রকণ্ঠ নিউজ
সারাদেশে গত একমাসে ৫৭৬টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৫৩২ জন নিহত এবং ২ হাজার ২২১ জন আহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ৬৬ জন নারী ও ৯৮ জন শিশু রয়েছে।
শনিবার সকালে রোড সেফটি ফাউন্ডেশন প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে। ৯টি জাতীয় দৈনিক, ১৭টি অনলাইন সংবাদমাধ্যম, বিভিন্ন ইলেকট্রনিক মিডিয়া এবং নিজস্ব তথ্যের ভিত্তিতে প্রতিবেদনটি প্রস্তুত করা হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, একই সময়ে ১৪টি নৌ-দুর্ঘটনায় ১২ জন নিহত, ২৭ জন আহত এবং ৩ জন নিখোঁজ রয়েছেন। পাশাপাশি ৪৮টি রেলপথ দুর্ঘটনায় ৬৭ জন নিহত এবং ২২৪ জন আহত হয়েছেন।
যানবাহনভিত্তিক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, নিহতদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ২০৪ জন মোটরসাইকেল চালক ও আরোহী। এছাড়া বাসের যাত্রী ৪৫ জন, ট্রাক-পিকআপ-ট্রাক্টরের আরোহী ২৮ জন, প্রাইভেটকার-মাইক্রোবাসের ৪৬ জন, তিন চাকার যানবাহনের যাত্রী ৯৪ জন, স্থানীয়ভাবে তৈরি যানবাহনের যাত্রী ২৩ জন এবং সাইকেল আরোহী ১৩ জন নিহত হয়েছেন।
দুর্ঘটনার ধরন বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ১৬৬টি মুখোমুখি সংঘর্ষ, ২৩১টি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে, ৮৬টি পথচারীকে চাপা বা ধাক্কা দিয়ে, ৮২টি পেছন থেকে ধাক্কা এবং ১১টি অন্যান্য কারণে ঘটেছে।
সড়কভিত্তিক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, ১৭১টি দুর্ঘটনা জাতীয় মহাসড়কে, ২৬৪টি আঞ্চলিক সড়কে, ৭০টি গ্রামীণ সড়কে, ৬২টি শহরের সড়কে এবং ৯টি অন্যান্য স্থানে ঘটেছে।
মোট ১ হাজার ৮টি যানবাহন এসব দুর্ঘটনায় জড়িত ছিল। এর মধ্যে মোটরসাইকেল ২৪৪টি, তিন চাকার যানবাহন ২০০টি, বাস ১৩৩টি, ট্রাক ১২০টি ছাড়াও অন্যান্য যানবাহন রয়েছে।
বিভাগভিত্তিক হিসাবে ঢাকা বিভাগ-এ সবচেয়ে বেশি ১২৬টি দুর্ঘটনায় ১৩৭ জন নিহত হয়েছেন। অন্যদিকে সিলেট বিভাগ-এ সবচেয়ে কম ২৭টি দুর্ঘটনায় ২৬ জন নিহত হয়েছেন। রাজধানী ঢাকা-য় ৪৬টি দুর্ঘটনায় ২৮ জন নিহত এবং ৬৯ জন আহত হয়েছেন।
প্রতিবেদনে সড়ক দুর্ঘটনার প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে— ত্রুটিপূর্ণ যানবাহন, ত্রুটিপূর্ণ সড়ক, বেপরোয়া গতি, চালকদের অসতর্ক মানসিকতা, অদক্ষতা এবং শারীরিক-মানসিক অসুস্থতা।


