হক আমীন:
আধুনিক ফুটবলের আকাশে নতুন সূর্যোদয়ের নাম লামিন ইয়ামাল ও পাউ কুবারসি । বয়সে তরুণ। ১৯ বছর। কিন্তু পারফরম্যান্সে পরিণত তারকার মতো। স্পেনের এই দুই তরুণ ফুটবলারের জন্ম একই বছর-২০০৭। এত অল্প বয়সে আন্তর্জাতিক ফুটবলে তাঁদের উত্থান যেন রূপকথার গল্পকেও হার মানায়।
স্পেনের ফুটবলে বহু কিংবদন্তি ফুটবলারের জন্ম হয়েছে, আর এখন সেই তালিকায় যুক্ত হয়েছে নতুন দুটি নাম। লামিন ইয়ামাল ও পাউ কুবারসি । ছোটবেলা থেকেই বলের সঙ্গে তাঁদের সখ্যতা, দৃষ্টি ও সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা- অন্যদের থেকে আলাদা করে তুলেছে ।
লামিন ইয়ামাল মূলত একজন উইঙ্গার । তাঁর গতি, বল রিসিভ এবং সৃজনশীলতা দর্শকদের মুগ্ধ করে । ডান প্রান্ত দিয়ে ছুটে গিয়ে প্রতিপক্ষের রক্ষন ভেঙ্গে ফেলা যেন তাঁর সহজাত দক্ষতা । অল্প বয়সেই জাতীয় দলে জায়গা করে নিয়ে প্রমাণ করেছেন তিনি ভবিষ্যতের বড় তারকা।
অন্যদিকে পাউ কুবারসি প্রথম ডিফেন্ডার, যার খেলার পরিপক্বতা বয়সকে হার মানায় । বল ক্লিয়ার করা, সঠিক সময়ে ট্যাকল করা এবং বোঝা পড়ার ক্ষমতা তাঁকে করে তুলেছে দলের নির্ভরযোগ্য স্তম্ভ। তাঁর উপস্থিতি রক্ষনভাগে এনে দেয় স্থিরতা ও আত্মবিশ্বাস ।
একজন আক্রমণে, আরেকজন রক্ষনে- দু’জনের ভূমিকা আলাদা হলেও লক্ষ্য একটাই- দলকে জয় এনে দেওয়া । তাঁদের সমন্বয়ে ভবিষ্যতে স্পেনের জাতীয় দলকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে পারে বলে ফুটবলপ্রেমীরা মনে করেন।
স্পেনের জাতীয় ফুটবল দল ইতোমধ্যে তাঁদের ওপর ভরসা ছেড়ে দিয়েছে। ফুটবলপ্রেমীরা দেখছেন নতুন এক স্বর্ণযুগের ইঙ্গিত। ইয়ামালের সৃজনশীলতা আর কুবারসির দৃঢ়তা মিলেই তৈরি হতে পারে আগামী দিনের অপরাজেয় দল স্পেন ।
ফুটবল দুনিয়ায় প্রতিভার অভাব কখনোই ছিল না, কিন্তু একই বছরে জন্ম নেয়া এমন দুই ব্যতিক্রমী প্রতিভা খুব কমই দেখা যায় । লামিন ইয়ামাল ও পাউ কুবারসি শুধু বর্তমানের আলোকিত নামই নন, তাঁরা ভবিষ্যতের প্রতিশ্রুতিও। সময়ই বলে দিবে তাঁরা কতটা দূর যেতে পারেন। তবে এটুকু নিশ্চিত- ফুটবল দুনিয়া তাঁদের দিকে তাকিয়ে আছে নতুন এক স্বপ্ন নিয়ে ।


