সীতাকুণ্ড (চট্টগ্রাম) সংবাদদাতা
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলা-এ পুকুরের পানিতে ডুবে শিশু মৃত্যুর ঘটনা আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে। সর্বশেষ হুমায়রা (৬) নামে এক কন্যা শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যুর মধ্য দিয়ে গত চার দিনে উপজেলায় মোট পাঁচ শিশুর প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে, যা স্থানীয় জনপদে শোকের ছায়া নেমে এনেছে।
সোমবার (২৭ এপ্রিল) দুপুর ১২টার দিকে উপজেলার বরৈয়াঢালা ইউনিয়নের পূর্ব বহরপুর এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত হুমায়রা প্রবাসী মোহাম্মদ আলমগীরের মেয়ে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, খেলার ছলে বাড়ির পাশের পুকুরে পড়ে যায় শিশুটি। দীর্ঘ সময় খোঁজাখুঁজির পর প্রায় দুই ঘণ্টা পর তাকে উদ্ধার করা হয়। পরে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এর আগে, রোববার সকাল ১১টার দিকে বাঁশবাড়িয়া এলাকায় পুকুরে ডুবে তিন বছর ৮ মাস বয়সী তাইফুল ইসলাম ইসবাতের মৃত্যু হয়। শনিবার দুপুরে একই উপজেলার বরৈয়াঢালা ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডে আরিজা বিনতে সোহেল (৩) নামে আরেক শিশুর প্রাণহানি ঘটে। এছাড়া শুক্রবার বিকেলে কুমিরা ইউনিয়নের রহমতপুর এলাকায় রেললাইন সংলগ্ন একটি কলোনিতে পুকুরে ডুবে মারা যায় আবদুল্লাহ (৪) ও সীমা আক্তার (৯) নামে দুই শিশু।
একাধিক মৃত্যুর ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে চরম উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। এলাকাবাসীর মতে, অধিকাংশ বাড়ির আশপাশে উন্মুক্ত পুকুর থাকলেও নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেই, যা শিশুদের জন্য বড় ঝুঁকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আলতাফ হোসেন বলেন, “গত চার দিনে বরৈয়াঢালা, কুমিরা ও বাঁশবাড়িয়া এলাকায় পানিতে ডুবে পাঁচ শিশুর মৃত্যু অত্যন্ত দুঃখজনক ও মর্মান্তিক।” তিনি জানান, এ ধরনের অপমৃত্যু প্রতিরোধে অভিভাবকদের সচেতনতা অত্যন্ত জরুরি।
তিনি আরও বলেন, শিশুদের একা জলাশয়ের পাশে খেলতে না দেওয়া, বাড়ির আশপাশের পুকুর বা জলাশয় ঘিরে রাখা এবং ছোটবেলা থেকেই শিশুদের সাঁতার শেখানো প্রয়োজন। পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়ে সচেতনতামূলক কার্যক্রম জোরদার করারও আহ্বান জানান তিনি।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, প্রশাসন ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সমন্বিত উদ্যোগ, পাশাপাশি অভিভাবকদের বাড়তি নজরদারিই পারে এ ধরনের মর্মান্তিক দুর্ঘটনা কমাতে।


