নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
পার্বত্য জেলা বান্দরবানের লামা উপজেলায় জমি সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে পাল্টাপাল্টি অভিযোগের ঘটনা সামনে এসেছে। অভিযোগ উঠেছে, অবৈধভাবে জমি দখলের উদ্দেশ্যে অনাথ আশ্রমের কোমলমতি শিক্ষার্থীদের মানববন্ধনে ব্যবহার করা হয়েছে—যা স্থানীয়ভাবে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।
বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) লামা প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে মোঃ ইউছুপ মজুমদার তার প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে মিথ্যাচার, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং শিশুদের ব্যবহার করে জনমত প্রভাবিত করার অভিযোগ তুলেন।
লিখিত বক্তব্যে ইউছুপ মজুমদার দাবি করেন, লামা উপজেলার ২৯৩ নম্বর ছাগলখাইয়া মৌজার ২৫০ নম্বর হোল্ডিংভুক্ত ৩৫ শতক জমি তিনি বৈধভাবে ক্রয় করে দীর্ঘদিন ধরে ভোগদখলে রয়েছেন। একই হোল্ডিং থেকে তার প্রতিপক্ষ উথোয়াইগ্য মার্মার মায়ের নামে ৫ শতক জমি ক্রয় করে সেখানে বসবাস করছেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
তার অভিযোগ অনুযায়ী, সম্প্রতি উথোয়াইগ্য মার্মা তার মালিকানাধীন জমির একটি অংশ জবরদখলের চেষ্টা করছেন। এ বিষয়ে তিনি গত ২৫ জুন ২০২৫ তারিখে উপজেলা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা দায়ের করেন। ওই মামলার প্রেক্ষিতে আদালত বিবাদীপক্ষকে জমিতে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করেন বলে তিনি দাবি করেন।
ইউছুপ মজুমদার আরও জানান, আদালতের নির্দেশনা অমান্য করে প্রতিপক্ষ পুনরায় জমি দখলের চেষ্টা অব্যাহত রেখেছেন। সর্বশেষ গত ৭ এপ্রিল ২০২৬ তিনি সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আরেকটি মামলা দায়ের করেন, যা বর্তমানে তদন্তাধীন রয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি অভিযোগ করেন, বিষয়টি ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে প্রতিপক্ষ অনাথ আশ্রমের শিক্ষার্থীদের ব্যবহার করে মানববন্ধনের আয়োজন করে তার বিরুদ্ধে বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার করছে। তার দাবি, স্থানীয় হেডম্যান, কারবারি ও জনপ্রতিনিধিদের তদন্ত প্রতিবেদনে প্রতিপক্ষের অভিযোগ অসত্য বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
তিনি সাংবাদিকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, নিরপেক্ষভাবে ঘটনার তদন্ত করে প্রকৃত তথ্য গণমাধ্যমে তুলে ধরা প্রয়োজন।
তবে এ বিষয়ে অভিযুক্ত পক্ষের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।


