সীতাকুণ্ড (চট্টগ্রাম) সংবাদদাতা
চট্টগ্রামের বহুল আলোচিত জান্নাতুল নাঈম ইরা মনি ধর্ষণ ও হত্যা মামলার তদন্ত কার্যক্রম দীর্ঘসূত্রতায় পড়েছে। সময় পেরিয়ে গেলেও এখনো মামলার গুরুত্বপূর্ণ ফরেনসিক ডকুমেন্ট—পোস্টমর্টেম রিপোর্ট হাতে না পাওয়ায় চার্জশিট দাখিল করতে পারছেন না তদন্তকারী কর্মকর্তা। এতে করে মামলার বিচার প্রক্রিয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা ও জনমনে উদ্বেগ বাড়ছে।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, মামলার আলামত ও সাক্ষ্যপ্রমাণ সংগ্রহের অধিকাংশ কাজ সম্পন্ন হলেও পোস্টমর্টেম রিপোর্ট ছাড়া তদন্তের চূড়ান্ত ধাপে যাওয়া সম্ভব হচ্ছে না। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ একাধিকবার তাগিদ দিলেও Chittagong Medical College Hospital (CMCH) থেকে রিপোর্ট পেতে বিলম্ব হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
একজন দায়িত্বশীল তদন্ত কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, “এই মামলাটি অত্যন্ত সংবেদনশীল। আমরা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত শেষ পর্যায়ে নিয়ে এসেছি। কিন্তু পোস্টমর্টেম রিপোর্ট ছাড়া চার্জশিট দাখিল করা আইনগতভাবে সম্ভব নয়। বিষয়টি দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য আমরা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছি।”
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পোস্টমর্টেম রিপোর্ট মামলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হিসেবে বিবেচিত হয়। এতে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ, নির্যাতনের ধরন এবং ঘটনার সময়কাল সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উঠে আসে, যা আদালতে অভিযোগ প্রমাণে সহায়ক ভূমিকা রাখে। ফলে এ রিপোর্ট ছাড়া মামলার অগ্রগতি কার্যত থমকে যায়।
এদিকে, নিহত ইরা মনির পরিবারের সদস্যরা ক্ষোভ প্রকাশ করে দ্রুত রিপোর্ট সরবরাহ এবং বিচার প্রক্রিয়া শুরু করার দাবি জানিয়েছেন। পরিবারের এক সদস্য বলেন, “আমরা দীর্ঘদিন ধরে অপেক্ষা করছি। প্রতিনিয়ত আদালতে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছি, কিন্তু রিপোর্ট না থাকায় কিছুই এগোচ্ছে না। আমরা দ্রুত ন্যায়বিচার চাই।”
মানবাধিকারকর্মী ও আইন বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এ ধরনের গুরুত্বপূর্ণ ও স্পর্শকাতর মামলায় কোনো ধরনের প্রশাসনিক জটিলতা বা সমন্বয়হীনতা বিচার প্রক্রিয়াকে দীর্ঘায়িত করে এবং ভুক্তভোগী পরিবারের কষ্ট আরও বাড়িয়ে তোলে। তাদের মতে, সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের মধ্যে কার্যকর সমন্বয়ের মাধ্যমে দ্রুত পোস্টমর্টেম রিপোর্ট প্রদান নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
সামগ্রিকভাবে, ইরা মনি হত্যা মামলার তদন্ত প্রায় শেষ পর্যায়ে থাকলেও একটি রিপোর্টের জন্য পুরো প্রক্রিয়া থমকে আছে—যা বিচার ব্যবস্থার জন্য একটি উদ্বেগজনক চিত্র হিসেবেই দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।


