চুয়াডাঙ্গা সংবাদদাতা
ভবনের সিঁড়ি দিয়ে ওপরে উঠতেই চোখে পড়ে ধুলোবালি আর ময়লা-আবর্জনার স্তূপ। দেখলেই বোঝা যায়, অনেক দিন এই পথে কারও পদচারণা হয়নি। ভবনের বাইরের দেয়ালে জমেছে শেওলা। ভেতরের দেয়ালের পলেস্তারা খসে পড়েছে। প্রতিটি কক্ষের শাটারগুলোতে ধরেছে মরিচা। কনফারেন্স কক্ষের আসবাবপত্রেও জমে আছে পুরু ধুলোর আস্তরণ।সাংগঠনিক কাজকর্মে খোলা হচ্ছে না অফিস ভবন। ভবনটি ব্যবহূত না হওয়ায় অযত্ন-অবহেলায় নষ্ট হচ্ছে কমপ্লেক্সের মূল্যবান আসবাবপত্র। যেন নীরব সাক্ষ্য। এটাই দামুড়হুদা উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবনের ভেতরের বাস্তব চিত্র।
শনিবার দুপুরে সরেজমিনে দেখা গেছে—ভাঙা জানালা,
টয়লেটের, বেসিন,আসবাবপত্রেও যান্ত্রিক ডিভাইস শক্তি জেনারেটর, ভবনজুড়ে এখন কেবল দুর্গন্ধ আর কুকুর বিড়ালের বিচরণ। ভবনের চারপাশে নোংরা আবর্জনায় ভরপুর। উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স এখন পরিণত হয়েছে ভুতুরে বাড়িতে। নেই মুক্তিযোদ্ধাদের পদচারণা, নেই কোনো কার্যক্রমের চিহ্ন। মুক্তিযোদ্ধাদের কল্যাণ ও বিভিন্ন সেবামূলক কার্যক্রম পরিচালনার উদ্দেশ্যে নির্মিত এই ভবনটি দীর্ঘদিন ধরে অব্যবহৃত ও অযত্নে পড়ে আছে।
তথ্যসূত্রে জানা যায়, স্থানীয় সরকার বিভাগ প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)-এর তত্ত্বাবধানে ২ কোটি ৫০ লাখ টাকা ব্যয়ে কার্পাসডাঙ্গা ইউনিয়ন এর কলেজ রোডে দক্ষিণ পাশে ৪ তলা বিশিষ্ট উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবন নির্মাণ করা হয়। ভবনের প্রাথমিক খরচ যোগান দিতে প্রথম ও দ্বিতীয় তলায় দোকানঘর নির্মাণ করা হয়। এছাড়া তৃতীয় তলায় রয়েছে অফিস কক্ষ, বিশাল আকৃতির একটি কনফারেন্স রুম। অফিস কক্ষে রয়েছে উন্নত আসবাবপত্রসহ আধুনিক বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা। ভবনের নির্মাণ কাজ সমাপ্ত হলে ২০১৫ সালের ১১ অক্টোবর আনুষ্ঠানিক ভাবে উদ্বোধন করা হয়। কিন্তু ভবনে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের যাতায়াত নেই। সারা বছর ভবনগুলো তালাবদ্ধ থাকে। মাসের পর মাস অপরিষ্কার-অপরিচ্ছন্ন অবস্থায়, ময়লা-আবর্জনায় ডুবে থাকে। তাই অযত্ন-অবহেলায় নষ্ট হচ্ছে কোটি টাকার ভবনসহ মূল্যবান আসবাবপত্র। একই সঙ্গে কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত ভবনটি অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে থাকায় বিপুল পরিমাণ সরকারি অর্থ অপচয় হচ্ছে।
এদিকে, এলাকার সাধারণ মানুষও ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সঠিক পরিকল্পনা না করে কোটি টাকা ব্যয়ে ভবন নির্মাণ করা হলেও তা ব্যবহার না হওয়ায় রাষ্ট্রের সম্পদ দেখভাল করার কেউ না থাকায় ফলে অযত্ন–অবহেলায় দিন দিন নষ্ট হচ্ছে দৃষ্টিনন্দন ভবনটি।
একাধিক মুক্তিযোদ্ধা বলেন, নিজেদের মাঝে অভ্যন্তরীণ বিভক্তি ও সমন্বয়ের ঘাটতি রয়েছে। ভবনটি দামুড়হুদা উপজেলা থেকে ১০ কিলোমিটার দূরে কার্পাসডাঙ্গা বাজার হওয়ায় অনেক মুক্তিযোদ্ধাই সেখানে যেতে অনীহা প্রকাশ করেন। প্রায় সকল বীর মুক্তিযোদ্ধার বয়সই ৯০-এর কোটায়, সিঁড়ি বেয়ে ওপরে ওঠা তাঁদের জন্য অত্যন্ত কষ্টকর। ভবনটি মাসের পর মাস তালাবদ্ধ অবস্থায় পড়ে থাকার এটিও একটি কারণ। মুক্তিযোদ্ধারা অভিযোগ করে বলেন, সঠিক পরিকল্পনা না করে ভবনটি নির্মাণ হওয়ায় এটি আজ পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। তাঁদের কল্যাণে ভবনটি নির্মিত হলেও ব্যবহার না হওয়ায় তাঁরা প্রত্যাশিত সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।এতে কোটি টাকার সরকারি সম্পদ নষ্ট হচ্ছে। অপচয় হচ্ছে বিপুল পরিমাণ অর্থ।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে দামুড়হুদা উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো: উবায়দুর রহমান সাহেল বলেন, পরিচ্ছন্নতা কর্মী নাই এ জন্য এই অবস্থা। আমরা পরিষ্কার -পরিচ্ছন্নতার ব্যবস্থা নিয়েছি কাজ চলছে। স্থানীয় এলাকাবাসীর দাবী দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে সরকারি এই সম্পদ পুরোপুরি মাদক ব্যবসায়ীদের দখলে চলে যাওয়ার আশঙ্কা।


