আক্কেলপুর (জয়পুরহাট) সংবাদদাতা
জয়পুরহাটের আক্কেলপুরে চাঁদার টাকা না দেয়ায় চারটি পরিবারের পৈত্রিক সম্মপত্তির বসতবাড়ী ভাংচুর, দোকানঘর ভাংচুর, নগদ টাকা ছিনতাই, আসবাবপত্র লুটপাট ও জমি দখলের অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন করেছে ভুক্তভোগী পরিবারগুলো। এ বিষয়ে আক্কেলপুর থানায় একটি অভিযোগ দেয়া হয়েছে।
আজ শনিবার সকালে উপজেলার দুলালী রত্নাহার গ্রামের স্থানীয় একটি বাড়ীতে সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে জহির উদ্দিন বলেন,আক্কেলপুর উপজেলার গোপিনাথপুর ইউনিয়নের দুলালী রত্নাহার গ্রামের আনোয়ার হোসেনের দুলালী মৌজার কবলাকৃত সম্পত্তি যাহার সাবেক দাগ ১৭০১ সিএস খতিয়ান নাম্বার ১০৩ জমির পরিমান সাড়ে ১৩ শতাংশ জমির উপর বসতবাড়ী ছিল। সেই বসতবাড়ীটি একই এলাকার প্রভাবশালী ইমেল হোসেন, গোলাম মোস্তফা, মারুফ হোসেন আবু সাঈদ, বুলি হোসেন ও আব্দুল আজিজসহ কয়েকজন সংঘবদ্ধ হয়ে ভাংচুর করে নগদ টাকা, আসবাবপত্র লুটপাট করে নিয়ে যায়। অপরদিকে একই এলাকার মাফিজুল ইসলাম, জহির উদ্দিনের দুলালী মৌজার কবলাকৃত সম্পত্তি যাহার সিএস খতিয়ান ১০৩ আর এস খতিয়ান ১৯৮ এসএ খতিয়ান ১৭০ হালে দাগ ১৭০১ সাবেক ৮৬৫ নম্বর জমির পরিমান ৪৪ শতাংশ। ১১৯১, ১১৯২, ১১৯৭, ধানী দৈর্ঘ প্রস্ত মিলে মোট জমির পরিমান ৩৯ শতাংশ। এই সম্পত্তি গুলো দীর্ঘদিন থেকে সিএস খতিয়ান ১০৩, আর এস খতিয়ান ৩৯, ১১৯৭ আর এস খতিয়ান ১৭৯ মুলে ভোগদখল করে আসছিল। কিন্তু হঠাৎ করে একই এলাকার প্রভাবশালী খলিলুর রহমান নুর মোহাম্মদ, তারেক হোসেন, ইমেল হোসেন, মোজাকেরু হোসেন গোলাম মোস্তফা মারুফ হোসেন, আবু সাঈদ, বুলি হোসেন ও আব্দুল আজিজসহ কয়েকজন সংঘবদ্ধ হয়ে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে আমাদের দখলী সম্পত্তি দখল করে নেয়। এসময় আমরা বাধাদিতে গেলে উল্টো আমাদেরকে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে মারপিট করে তারিয়ে দেয়। যাওয়ার সময় হুমকি দিয়ে বলে গেছেন চারটি পরিবার থেকে মোট ২০ লক্ষ টাকা চাঁদা দিতে হবে। না হলে এবার আসলে জীবন দিতে হবে।
সংবাদ সম্মেলনে আনোয়ার হোসেন বলেন,আমার কবলাকৃত সম্পত্তি বসতবাড়ীতে ইমেল বাহীনির নেতৃত্বে ৫০ থেকে ৬০ জনের একটি দল দেশীয় অস্ত্র নিয়ে এসে বাড়ী ভাংচুর করে বিভিন্ন জিনিসপত্র নিয়ে গেছে। এ সময় পরিবারের সদস্যরা প্রাণভয়ে বাড়ী ছেড়ে অন্য বাড়ীতে আশ্রয় নেয়। আমি এই ঘটনার সুষ্টু তদন্তপৃর্বক বিচার প্রার্থনা করছি।
ভুক্তভোগী মাফিজুল ইসলাম বলেন, আমার কবলাকৃত সম্পত্তির উপর দোকান ভাংচুর করে দখলে নেয়ার চেষ্টা করে ইমেল বাহীনির লোকজন। স্থানীয়দের বাধারমুখে তারা চলে যায়। এ বিষয়টি নিয়ে আমি থানায় একটি অভিযোগ দিয়েছি। আমি এই বিষয়টির সুষ্টু তদন্তপূর্বক বিচার প্রার্থনা করছি।
স্থানীয় বাসিন্দা নজরুল ইসলাম বলেন, আমি দীর্ঘদিন থেকে এই সম্পত্তিগুলো সিএস, আর এস খতিয়ান মুলে ভোগদখল করছি। কিন্তু হঠাৎ করে একই এলাকার প্রভাবশালী মোঃ খলিলুর রহমান, ইমেল হোসেন, মোজাকেরু হোসেন মোঃ গোলাম মোস্তফা আবু সাঈদ , বুলি হোসেন মোঃ মারুফ হোসেন ও আব্দুল আজিজসহ কয়েকজন সংঘবদ্ধ হয়ে আমাদের দখলী সম্পত্তি তারা জোড়পৃর্বক দখলে নেয়। আমাকে এই বাহিনীর লোকজন প্রতিনিয়ত হুমকি দিয়ে যাচ্ছে। বিষয়টির সুষ্টু তদন্তপূর্বক বিচার প্রার্থনা করছি।
সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী আব্দুর কুদ্দুস বলেন,আমার বসতবাড়ীতে হামলা চালিয়ে ঘর ভাংচুর, ঘরে রাখা সরিষা, আলু, ধানসহবিভিন্ন জিনিসপত্র লুটপাট করে নিয়ে গেছে। আমি বাধা দিতে গেলে আমাকেও দেশীয় অস্ত্র দিয়ে আঘাত করতে আসে। প্রাণের ভয়ে দৌড়ে পালিয়ে যায়। আমি এই ঘটনার সুষ্টু বিচার প্রার্থনা করছি।
স্থানীয় ইউপি সদস্য মোঃ আব্দুল হাকিম বলেন, আমি স্থানীয় মেম্বার হিসেবে জমিজমা সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে উভয়পক্ষকে শান্ত থাকার কথা বলেছি। কিন্ত একটি পক্ষ আমার নামেও মামলা দিয়েছে। আমাকে হয়রানী করার জন্য বিভিন্ন মিডিয়ায় সংবাদ প্রচার করেছে। আমি এই ঘটনার সাথে জড়িত নয়। তবুও আমার জীবন হুমকির মুখে পড়েছে। এই ঘটনার সুষ্টু তদন্তপৃর্বক বিচার প্রার্থনা করছি।
আক্কেলপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহিন রেজা বলেন, উপজেলার গোপিনাথপুর ইউনিয়নের দুলালী রত্নাহার গ্রামের বসতবাড়ী ভাংচুর ও জমি দখলের বিষয়ে একটি অভিযোগ পেয়েছি। সুষ্টু তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।


