ডেস্ক রিপোর্টঃ
নওগাঁয় গৃহবধূ ইয়াসমিন বানু হত্যার বিচার দাবিতে নওগাঁয় মানববন্ধন করা হয়েছে। গতকাল রোববার বেলা ১১ টার দিকে নওগাঁ শহরের মুক্তির মোড়ে এ কর্মসূচি পালন করা হয়। ইয়াসমিনের স্বজন ও এলাকাবাসীর উদ্যোগে এ কর্মসূচি পালন করা হয়।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, ছয় মাস আগে নওগাঁ সদর উপজেলার শিকারপুর ইউনিয়নের গোয়ালা গ্রামের জমির শেখের ছেলে আকাশের সঙ্গে বদলগাছী উপজেলার ভরট্ট গ্রামের রিয়াজ উদ্দিনের মেয়ে ইয়াসমিন বানুর বিয়ে হয়। বিয়ের কিছু দিন পর তাঁর স্বামীর অন্য নারীর সঙ্গে সম্পর্ক থাকার বিষয় জানতে পারলে দুইজনের মধ্য দাম্পত্য কলহ শুরু হয়।
দাম্পত্য কলহের জেরে ইয়াসমিনকে শারিরীক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করা শুরু করে আকাশ ও তাঁর পরিবারের লোকজন। গত ২০ ফেব্রুয়ারি পারিবারিক কলহের জেরে আকাশ ও তাঁর পরিবারের লোকজন ইয়াসমিনকে মারপিট করতে থাকলে প্রতিবেশিরা তাঁকে রক্ষা করতে এগিয়ে যান। এ সময় প্রতিবেশিদের গালিগালাজ করে তাড়িয়ে দেন আকাশ। ওই স্বামীর বাড়িতে ইয়াসমিনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। বিষয়টি নিয়ে ইয়াসমিনের বাবা থানায় মেয়েকে হত্যার দায়ে নওগাঁ সদর থানায় অভিযোগ করেন। কিন্তু থানা পুলিশ বিষয়টিকে অপমৃত্যু মামলা হিসেবে রেকর্ড করে। এ ঘটনার সুষ্ঠ তদন্ত করে ইয়াসমিন হত্যায় জড়িতদের বিচারের দাবি জানান তাঁরা।
মানববন্ধনে ইয়াসমিনের বাবা রিয়াজ উদ্দিন বলেন, ‘আমরা গরীব মানুষ। মানুষের কাছে হাত পেতে বিয়েতে মেয়েকে স্বর্ণালংকার বাবদ প্রায় ৫০ হাজার টাকা দিয়েছি। ইয়াসমিনের স্বামী পরকিয়ায় জড়িয়ে পড়লে এর প্রতিবাদ করায় আমার মেয়েকে শারীরিক নির্যাতন করে জামাই আকাশ ও তাঁর পরিবারের লোকজন। একপর্যায়ে আকাশ ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা আমার মেয়েকে নির্যাতন ও মারপিট করে হত্যা করে। আমি এর বিচার চাই।’
তিনি আরও বলেন, ‘এ ঘটনায় আমার মেয়েকে হত্যার অপরাধে আকাশ ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ করি। কিন্তু পুলিশ হত্যা মামলা দায়ের না করে একটি অপমৃত্যু মামলা হিসেবে রেকর্ড করা হয়েছে। এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে আকাশসহ জড়িত অন্য ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানাচ্ছি।’
নিহত ইয়াসমিনের বোন রেশমা খাতুন বলেন, ‘আমার বোনকে অনেক শারীরিক নির্যাতন ও মারপিট করে হত্যা করা হয়েছে। মারা যাওয়ার পর তাঁর সারা শরীরে আঘাতের চিহ্ন, চোয়াল ফুলা-কালসিরা জখম এবং নাখে রক্তের দাগ ছিলো। পরে সত্য ঘটনাকে গোপন করার জন্য পুলিশকে প্রভাবিত করে কৌশলে সাদা কাগজে সই নিয়ে থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা রেকর্ড করে আর আমাদেরকে বলেন হত্যা মামলা রেকর্ড হয়েছে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘পুলিশ আসামীদের গ্রেপ্তার না করলে পরে থানার খোজ-খবর নিয়ে দেখা যায় হত্যা মামলা রেকর্ড না করে অপমৃত্যু মামলা রেকর্ড করা হয়েছে। তাই দ্রুত আমার বোনের হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার করে ফাঁসির দাবি জানাচ্ছি।’
এ বিষয়ে জানতে চাইলে নওগাঁ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নিয়ামুল হক বলেন, গৃহবধূ ইয়াসমিন নিহতের ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যু হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে, হত্যার সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পেলে আসামিদের গ্রেপ্তার করা হবে এবং আদালতে বিষয়টিতে হত্যাকাণ্ড হিসেবেই অভিযোগপত্র দেওয়া হবে।


