অনিয়ম, লুটপাট ও অব্যবস্থাপনার কারণে ধুঁকতে থাকা ৯টি ব্যাংক-বহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠান বন্ধের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। উচ্চ খেলাপি ঋণ, মূলধন ঘাটতি ও আমানতকারীর টাকা ফেরত দিতে অক্ষমতা—এই তিনটি সূচককে ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠানগুলোকে ‘অপরিচালনযোগ্য’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুর বৃহস্পতিবার এসব প্রতিষ্ঠানের অবসায়ন প্রক্রিয়া শুরু করার অনুমোদন দেন। ফাইন্যান্স কোম্পানি আইন ২০২৩ অনুযায়ী তাদের লাইসেন্স বাতিল করা হবে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে, ক্ষুদ্র আমানতকারীদের টাকা ফেরত দেওয়ার বিষয়টিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। এছাড়া প্রতিষ্ঠানগুলোর কর্মরত কর্মকর্তারা চাকরিবিধি অনুযায়ী সব সুযোগ-সুবিধা পাবেন।
বন্ধ হওয়ার উদ্যোগ নেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলো হলো—
পিপলস লিজিং, ইন্টারন্যাশনাল লিজিং, আভিভা ফাইন্যান্স, এফএএস ফাইন্যান্স, ফারইস্ট ফাইন্যান্স, বাংলাদেশ ইন্ডাস্ট্রিয়াল ফাইন্যান্স কোম্পানি (বিআইএফসি), প্রিমিয়ার লিজিং, জিএসপি ফাইন্যান্স ও প্রাইম ফাইন্যান্স।
বাংলাদেশ ব্যাংকের পর্যালোচনায় দেখা গেছে, এসব প্রতিষ্ঠানের খেলাপি ঋণের হার ৫৯ থেকে ৯৯ শতাংশের মধ্যে। উদাহরণস্বরূপ, এফএএস ফাইন্যান্সের খেলাপি ঋণ ৯৯.৯৩ শতাংশ, ফারইস্ট ফাইন্যান্সের ৯৮ শতাংশ। এর ফলে মোট ক্ষতি হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে গেছে।
এ ছাড়াও, দেশের মোট ৩৫টি ব্যাংক-বহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ২০টি সমস্যাগ্রস্ত। তাদের খেলাপি ঋণের পরিমাণ ২১ হাজার ৪৬২ কোটি টাকা, যা মোট ঋণের ৮৩.১৬ শতাংশ।
বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, অবসায়নের প্রাথমিক ধাপে গ্রাহকদের নিট ব্যক্তি আমানতের প্রায় ৪,৯৭১ কোটি টাকার জোগান দেওয়া হবে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক নিশ্চিত করেছে, প্রতিষ্ঠানগুলোর পুনর্গঠন ও বন্ধের পর কর্মীরা নিয়মিত সুযোগ-সুবিধা পাবেন।


