চলতি বছর ৩৪ বার বেড়েছে দাম, সামনে ভরি ছাড়াতে পারে ২ লাখ টাকা
বাংলাদেশের সোনার বাজারে চলছে নজিরবিহীন উত্থান-পতন। কখনও টানা বাড়ছে, আবার কখনও কমছে—এভাবে চলতি বছর ইতোমধ্যে ৫০ বার সোনার দাম সমন্বয় করা হয়েছে। এর মধ্যে ৩৪ বার দাম বেড়েছে, আর কমেছে মাত্র ১৬ বার। ফলে ভরি প্রতি সোনার দাম সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে যাচ্ছে।
ইতিহাসের সর্বোচ্চ দামে সোনা
সবশেষ বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস) নতুন দাম ঘোষণা করেছে। এখন—
- ২২ ক্যারেট সোনা: প্রতি ভরি ১,৮১,৫৫০ টাকা
- ২১ ক্যারেট সোনা: প্রতি ভরি ১,৭৩,৩০৪ টাকা
- ১৮ ক্যারেট সোনা: প্রতি ভরি ১,৪৮,৫৪১ টাকা
- সনাতন পদ্ধতি: প্রতি ভরি ১,২৩,০৬৭ টাকা
বাংলাদেশের বাজারে এই দামই এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বর্তমান ধারা অব্যাহত থাকলে শিগগিরই ভরি প্রতি দাম ২ লাখ টাকা ছাড়াতে পারে।
কেন বাড়ছে দাম?
বিশেষজ্ঞদের মতে, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দা, ভূ-রাজনৈতিক সংকট, ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ, গাজা ইস্যু এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের শুল্কনীতি বিশ্ববাজারে অস্থিরতা তৈরি করেছে। এসব কারণে বিনিয়োগকারীরা নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে সোনার দিকে ঝুঁকছেন।
অস্ট্রেলিয়ার বাজার বিশ্লেষক টিম ওয়াটারার বলেন— “অর্থনৈতিক বাজার সবচেয়ে বেশি ভয় পায় অনিশ্চয়তাকে। আর এই অনিশ্চয়তার সময়েই সোনার প্রতি ঝোঁক বেড়ে যায়।”
এ ছাড়া ফেডারেল রিজার্ভ সুদের হার কমাতে পারে—এমন জল্পনাও সোনার দামের ঊর্ধ্বগতিতে ভূমিকা রাখছে।
বাংলাদেশের প্রভাব
বাংলাদেশে সোনার দাম বাড়ার পেছনে আন্তর্জাতিক বাজারের প্রভাব সরাসরি কাজ করছে। ডলারের বিপরীতে টাকার মান কমে যাওয়া এবং আমদানির খরচ বেড়ে যাওয়া দাম বাড়ার অন্যতম কারণ।
বাজুসের সহসভাপতি মাসুদুর রহমান বলেন— “সোনার দাম এখন প্রায় ১ লাখ ৮০ হাজার টাকার ওপরে। বিশ্ববাজারে অস্থিরতা চলতে থাকলে এটি ২ লাখ টাকা ছাড়াতে পারে। এতে সাধারণ মানুষের পক্ষে সোনা কেনা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ছে।”
সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ
বাজারে ক্রেতা কমে যাওয়ায় অলংকার ব্যবসায়ীরা ক্ষতির মুখে পড়েছেন। অনেক স্বর্ণকার কাজ হারাচ্ছেন। একসময় যে সোনার গয়না বিয়ে বা বিশেষ অনুষ্ঠানের জন্য সহজেই কেনা যেত, এখন তা অনেকের জন্যই স্বপ্নের বাইরে চলে যাচ্ছে।
একজন স্বর্ণকারের ভাষায়— “এখন দিনে দোকানে আসে ২০-৩০ জন, কিন্তু কিনে যায় ২-৩ জন। কারিগররা কাজ না পেয়ে বেকার হয়ে যাচ্ছে।”
সামনে কী হতে পারে?
বিশ্ব পরিস্থিতি স্থিতিশীল হলে সোনার দাম আবারও কিছুটা কমে আসতে পারে বলে ধারণা করছেন বিশেষজ্ঞরা। তবে ভূ-রাজনৈতিক সংকট ও বৈশ্বিক অর্থনীতি অস্থির থাকলে দাম আরও বাড়তে পারে।


