বাংলাদেশের সোনার বাজারে চলছে অস্থিরতার দোলাচল। প্রতিদিনই দাম বাড়ছে, আর ক্রেতারা হাঁপিয়ে উঠছেন। একসময় বিয়ের মৌসুম বা বিশেষ অনুষ্ঠানে সোনা কেনা ছিল পরিবারের স্বাভাবিক প্রস্তুতির অংশ, কিন্তু এখন সেই সোনা যেন স্বপ্নের মতোই অপ্রাপ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতির (বাজুস) সর্বশেষ ঘোষণায় দেখা গেছে- ২২ ক্যারেট সোনা (ভরি): ১,৮৫,৯৪৭ টাকা, ২১ ক্যারেট সোনা (ভরি): ১,৭৭,৫০৩ টাকা, ১৮ ক্যারেট সোনা (ভরি): ১,৫২,১৪৫ টাকা, সনাতন পদ্ধতি (ভরি): ১,২৬,১৪৬ টাকা।
এই দাম সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে গেছে। অনেক মধ্যবিত্ত পরিবার এখন গয়না কেনা তো দূরের কথা, পুরনো সোনা ভাঙিয়েও নতুন কিছু বানাতে পারছেন না।
ঢাকার বিভিন্ন গয়নার দোকান ঘুরে দেখা যায়, আগের তুলনায় ক্রেতার ভিড় অনেক কম। দোকান মালিকরা বলছেন- “আগে যেখানে একসাথে ২–৩ ভরি সোনা কিনতেন গ্রাহকরা, এখন তারা এক আনা বা আধা ভরি নিয়েই ভাবছেন। অনেকেই শুধু দেখে চলে যাচ্ছেন।”
বিশ্ববাজারে সোনার দামের ঊর্ধ্বগতি, ডলারের সংকট এবং বৈশ্বিক রাজনৈতিক অস্থিরতা—এসব কারণেই দেশের বাজারেও সোনার দাম বেড়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যতদিন বৈশ্বিক বাজারে অস্থিরতা থাকবে, ততদিন দেশের বাজারেও সোনার দাম উচ্চ পর্যায়েই থাকবে।
মধ্যবিত্তদের মুখে এখন একটাই আক্ষেপ- “আগে সোনা ছিল সঞ্চয়ের নিরাপদ ভরসা, এখন সেটা শুধু ধনীদের অলংকার!”
অর্থনীতিবিদদের মতে, যদি ডলারের বাজার স্থিতিশীল হয় এবং আন্তর্জাতিক সোনার দাম কিছুটা কমে, তাহলে দেশের বাজারেও স্বস্তি ফিরতে পারে। তবে আপাতত ক্রেতাদের জন্য আশার আলো খুবই ক্ষীণ।


