আন্তর্জাতিক ডেস্ক, বরেন্দ্রকণ্ঠ নিউজ
সাম্প্রতিক সরকারবিরোধী বিক্ষোভের প্রেক্ষাপটে বৈশ্বিক ইন্টারনেট থেকে স্থায়ীভাবে বেরিয়ে আসার পরিকল্পনা করছে ইরান সরকার। এর পরিবর্তে দেশটি নিজস্ব প্রযুক্তিনির্ভর রাষ্ট্রনিয়ন্ত্রিত ‘জাতীয় ইন্টারনেট’ ব্যবস্থা চালুর দিকে এগোচ্ছে। নতুন এই ব্যবস্থায় ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক ইন্টারনেট ব্যবহার আর নাগরিক অধিকার হিসেবে গণ্য হবে না বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
শনিবার (১৭ জানুয়ারি) ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান-এর এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য প্রকাশ করা হয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ইন্টারনেট সেন্সরশিপ পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা ফিল্টারওয়াচের তথ্যমতে, আন্তর্জাতিক ইন্টারনেটকে ধীরে ধীরে ‘সরকারি বিশেষাধিকার’-এ রূপান্তরের একটি গোপন পরিকল্পনা বাস্তবায়নের পথে রয়েছে ইরানি কর্তৃপক্ষ।
ইরানের ভেতরের একাধিক সূত্রের বরাতে প্রতিবেদনে জানানো হয়, রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম ও সরকারি মুখপাত্ররা ইতোমধ্যে ইঙ্গিত দিয়েছেন—২০২৬ সালের পর আন্তর্জাতিক ইন্টারনেট আর অবাধ থাকবে না। বরং নির্দিষ্ট যাচাই ও নিরাপত্তা ছাড়পত্রের আওতায় সীমিত সংখ্যক ব্যক্তি এই সুবিধা পেতে পারেন।
ফিল্টারওয়াচের প্রধান আমির রাশিদি বলেন, নতুন ব্যবস্থায় শুধুমাত্র সরকারি অনুমোদনপ্রাপ্ত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান সীমিত ও ফিল্টার করা বৈশ্বিক ইন্টারনেট ব্যবহারের সুযোগ পাবেন। সাধারণ নাগরিকদের জন্য থাকবে কেবল একটি জাতীয় ইন্টারনেট ব্যবস্থা, যা সম্পূর্ণভাবে দেশীয় এবং বৈশ্বিক নেটওয়ার্ক থেকে বিচ্ছিন্ন থাকবে।
এই জাতীয় ইন্টারনেট মূলত একটি সমান্তরাল ডিজিটাল অবকাঠামো, যা সরকারের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে পরিচালিত হবে। এতে থাকবে সরকার অনুমোদিত সার্চ ইঞ্জিন, মেসেজিং অ্যাপ, ন্যাভিগেশন সেবা এবং দেশীয় স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্ম—যাকে অনেকেই ‘ইরানি নেটফ্লিক্স’ হিসেবে অভিহিত করছেন।
উল্লেখ্য, টানা ১২ দিনের সরকারবিরোধী বিক্ষোভের পর গত ৮ জানুয়ারি ইরানে ব্যাপক ইন্টারনেট বন্ধের সূচনা হয়। বিভিন্ন সূত্রের দাবি অনুযায়ী, ওই আন্দোলনে হাজার হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন। কঠোর দমন-পীড়নের পর বিক্ষোভ কিছুটা স্তিমিত হলেও দেশটি এখনো কার্যত তথ্য-বিচ্ছিন্ন অবস্থায় রয়েছে। সহিংসতায় বহু স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং নিহত হয়েছেন বেশ কয়েকজন নিরাপত্তাকর্মীও।
বিশেষজ্ঞরা এ পরিস্থিতিকে ইতিহাসের অন্যতম দীর্ঘ ও কঠোর ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউট হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন, যা ২০১১ সালের মিশরের তাহরির স্কয়ার আন্দোলনের সময়কার ইন্টারনেট বন্ধের চেয়েও দীর্ঘ। ইরানের এক সরকারি মুখপাত্র দেশীয় গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, অন্তত নওরোজ বা পারস্য নববর্ষ (২০ মার্চ) পর্যন্ত আন্তর্জাতিক ইন্টারনেট বন্ধ থাকবে।


