হক আমীন
রোদ, বৃষ্টি কিংবা কুয়াশা কোন কিছুই থামাতে পারে না আবদুল জলিলের (৭০) পথচলা। কাঁধে ব্যাগ, হাতে ছাতা আর ছোট্ট ঝুলিতে আতর, সুরমা ও তহবিহ নিয়ে হেঁটে চলেন হাট- বাজার আর গ্রামের পথে পথে। এ পথই তাঁর জীবন, এ পথই তাঁর জীবিকা।
আবদুল জলিলের বাড়ি রংপুর পীরগাছা উপজেলার কুমারগারী গ্রামে। তবে তাঁর পূর্ব পুরুষের বসতি ছিল নোয়াখালীর মাটিতে। সময়ের পালাবদল আর জীবিকার তাগিদে পরিবার নিয়ে নতুন ঠিকানায় গড়েছেন জীবন সংসার ।
১৯৮৮ সাল থেকে তিনি এ পেশার সাথে জড়িত। দীর্ঘ চার দশক ধরে আতর, সুরমা আর তসবিহ বিক্রি করেই চলছে তাঁর জীবন সংগ্রাম । বয়স বেড়েছে, শরীরে ক্লান্তি এসেছে- তবুও থেমে থাকার সুযোগ নেই। কারন এ ছোট্ট ব্যবসাই তাঁর সংসারের একমাত্র ভরসা।
ভোরের আলো ফুটতেই বেড়িয়ে পড়েন আবদুল জলিল । কখনও হাটে- বাজারে, আবার কখনও গ্রামবাংলার নিরিবিলি পথ ধরে হাঁটতে হাঁটতে ডাক দেন- “আতর, সুরমা, তসবিহ নেবেন–।” তাঁর সেই ডাক অনেকের কাছে আজও পরিচিত ।
তাঁর ঝুলিতে থাকে নানা ধরনের আতর, চোখের সুরমা, তসবিহসহ ধর্মীয় ব্যবহার্য কিছু সামগ্রী ।
তাঁর কাছ থেকে অনেকেই আগ্রহ নিয়ে এসব জিনিস কিনে থাকেন। বিশেষ করে বয়স্ক মানুষের কাছে তাঁর পণ্যের কদর রয়েছে ।
সম্প্রতি ফালগুনের এক ভর দুপুরে আবদুল জলিলের সাথে দেখা হয় সোনাহাট সীমান্তে । তিনি বলেন, ” অনেক বছর ধরেই এ কারবার করছি। এ আয় দিয়েই সংসার চালাই। এতে কষ্ট আছে, কিন্তু দিন চলে যায় ।”
সময়ের পরিবর্তনে বাজারে এসেছে নানা আধুনিক পণ্য আর দোকানপাট । তবুও এখনও গ্রামবাংলার পথে পথে দেখা মেলে এমন কিছু সংগ্রামী মানুষের- যারা ছোটখাটো ব্যবসা আর অদম্য পরিশ্রম দিয়ে জীবনের লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন। আতর, সুরমা আর তসবিহের সুবাস ছড়িয়ে পথে পথে ঘুরে বেড়ানো আবদুল জলিলও তেমনই একজন মানুষ-যার জীবনকথা গ্রামবাংলার সংগ্রামী মানুষের গল্পই মনে করিয়ে দেয় ।


